১৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৩৩ পিএম

দেশে করোনার সংক্রমণ হার দশমিক তিন ভাগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে করোনার সংক্রমণ হার দশমিক তিন ভাগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সাহিদ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনায় উন্নত দেশগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পরলেও বাংলাদেশ তা চমৎকারভাবে মোকাবেলা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, বিশ্বে করোনা আক্রান্তের হার শতকরা এক ভাগ হলেও দেশে তা মাত্র দশমিক তিন ভাগ।

আজ রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) সভায় এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মহামারীতে উন্নত দেশগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পরলেও বাংলাদেশ তা চমৎকারভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে। বিশ্বে  মোট জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগ করোনা আক্রান্ত হলেও দেশে তা দশমিক তিন ভাগ।

এ সময় আগামী জানুয়ারির মাধ্যেই বাংলাদেশ টিকা পাবে এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান জাহিদ মালেক।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় গাইডলাইনসমূহের মোড়ক উন্মোচন এবং হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে অবহিতকরণ সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বারবার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করায় করোনার গাইড লাইন দশবার বদলাতে হয়েছে। এবার চূড়ান্ত করা হলো, এর আলোকে চিকিৎসক নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক আগেই আমরা আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে করোনার গাইডলাইন তৈরি করেছি। সে গাইডলাইন প্রায় নয় থেকে দশ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও গবেষকরা কাজ করছেন। গবেষণায় তাঁরা নতুন নতুন তথ্য পেয়েছে, এতে গাইডলাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাদের গাইডলাইন পরিবর্তন করেছে। তাঁদের অনুসরণ করেই আমরা গাইডলাইন তৈরি করেছি।’

করোনাকালে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে এর আগেও প্লেগ, সোয়াইন ফ্লু, ইবোলার মতো বহু মহামারী হয়েছে। কিন্তু সেই মহামারীগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে ছিলো, সারা পৃথিবীতে ছড়াতে অনেক সময় লেগেছে। কিন্তু করোনা মাত্র দুই মাসের মধ্যে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত করা হয় গত আট মার্চ এবং প্রথম মৃতুর ঘটনা ঘটে ১৭ মার্চ। তখন থেকেই সরকার তা মোকাবেলায় কাজ করা শুরু করেছে। আমরা জাতীয় থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কমিটি করে দিয়েছি। আমরা চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করে দিয়েছি। সংক্রমণের শুরুতে আমাদের মাত্র একটি ল্যাব ছিল। এখন দেশে পিসিআরসহ বিভিন্ন ধরনের শতাধিক ল্যাব রয়েছে। অতি সম্প্রতি আমরা এন্টিজেন পরীক্ষা শুরু করেছি।’

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা খুবই সংক্রামক রোগ। তাই আমরা একই হাসপাতালে বিভিন্ন স্তর তৈরি করেছি, চিকিৎসক ও নার্সদের আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করেছি। এমনকি হাসপাতালকে সরাসরি কোভিড রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড করেছি। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে আমরা দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি।’

এ সময়  করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক দিক-নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং যখন যা প্রয়োজন তার অনুমোদন দিয়েছেন বলেও জানান জাহিদ মালেক।

তিনি আরও বলেন, করোনাকালে অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সরকার প্রায় ৭৮টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন চালু করেছে, যা এখনও চলমান রয়েছে। দেশে এখন হাজার খানেক হাই ফ্লো অক্সিজেন ক্যানোলা রয়েছে। সরকার বিভন্ন স্থানে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে। বন্দরগুলোতে পরীক্ষা ও স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

করোনার চিকিৎসায় সরকারের খরচের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় প্রতিটি আইসিইউ বেডে খরচ চার লাখের বেশি এবং সাধারণ বেডে দেড় লাখ টাকা। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনাকালে অনুপ্রেরণার জন্য বিভিন্ন স্ক্রিম ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সেবা খাত মিলিয়ে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি তিনি প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা সচিব মো. আব্দুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক