২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০৭:৩৭ পিএম

চিকিৎসকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে: বিএমএ

চিকিৎসকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে: বিএমএ

মেডিভয়েস ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিকিৎসক নিগ্রহ, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, চিকিৎসক গ্রেপ্তার, এমনকি রোগীর স্বজনের আঘাতে চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব ঘটনাসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্যের কারণে চিকিৎসকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)।

আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য উঠে এসেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসাধীন কোন রোগীর মৃত্যু ঘটলেই রোগীর স্বজন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিউৎসাহী কর্মকাণ্ডে চিকিৎসকদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যা নির্বিঘ্ন চিকিৎসা সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে।

রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতা এ সকল অপকর্মকারীদের উৎসাহিত করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এত আরও বলা হয়েছে, রোগীর স্বজনদের  সাথে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কোনও কোনও ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজেরাই চিকিৎসক নিগ্রহে জড়িয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএমএ।

সংগঠনটি বলছে, ডা. মামুনের অস্বাভাবিক গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে একজন বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। আইনের প্রতিকার পাওয়া যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার ঠিক তেমনি একজন নিরীহ সরকারী কর্মকর্তার বিতর্কিত গ্রেপ্তার ও রিমান্ড সঠিক আইনের প্রয়োগকে নিশ্চিত করে না।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া সর্বোচ্চ কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত বিভ্রান্তিমূলক ও অজ্ঞতাপ্রসূত মন্তব্যের মাধ্যমে চিকিৎসকদের মর্যাদাকে ক্রমাগত আঘাত করছে।

সংগঠনটি বলছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া সর্বোচ্চ ওই কর্মকর্তা চিকিৎসকদের অভিভাবক না হয়ে প্রশাসনের রুদ্র মূর্তিতে শাসকের ভাষায় কথা বলেন, যা ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্রের আচরণকেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

এতে আরও বরা হয়েছে, মহামান্য আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি করে আমলাতন্ত্র ক্রমাগত চিকিৎসক নিগ্রহের পথকে সুগম করে দিচ্ছে। অন্যদিকে আমলাতন্ত্র চর দখলের মতো চিকিৎসক ক্যাডারের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অসংখ্য দুর্বলতা চিকিৎসকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে আমলাতন্ত্র সরকার জনগণ ও চিকিৎসকদের মুখোমুখি করে দিয়ে নিজেরা অনবরত ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। চিকিৎসকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এজন্য ঘুনে ধরা প্রশাসনযন্ত্রকেই দায়ী করছে চিকিৎসকদের এই সংগঠনটি।

চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহামারী মোকাবেলায় নিরলসভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে সংগঠনটি বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ মোকাবিলায় চিকিৎসকরা যখন নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় প্রভাবশালী মাস্তান কর্তৃক চিকিৎসক নিগ্রহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কর্তৃক হয়রানি আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের বিভ্রান্তিকর বাগাড়ম্বরে চিকিৎসকদের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

বিবৃতিতে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, প্রতিটি চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আঘাতকারীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং অন্যায়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কর্তৃক চিকিৎসক গ্রেপ্তারের ঘটনা বন্ধ করতে জোর দাবি জানায় সংগঠনটি।

এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিয়ে নিজেদের কাজ ও দায়িত্বের প্রতি আরো মনোযোগী হতে এবং অর্বাচীনের মতো চিকিৎসকদের চিকিৎসা পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা জানানো হয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন। 

মেডিকেল শিক্ষার্থী-চিকিৎসকদের পরীক্ষা

সংক্রমিতদের মৌখিক পরীক্ষায় নমনীয় মেডিকেলগুলো

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে