২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১১:১৮ এএম
বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের কর্মশালায় বক্তারা

দেশের ৫ ভাগ মানুষই স্ট্রোকের ঝুঁকিতে!

দেশের ৫ ভাগ মানুষই স্ট্রোকের ঝুঁকিতে!

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে স্ট্রোকের হার প্রতি হাজারে ১২ জন। দেশের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে অনেকের ধারণা স্ট্রোক হচ্ছে হৃদযন্ত্রের কোনো সমস্যা। কিন্তু এটি আসলে মস্তিস্কের একটি রোগ। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া মানেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ।

২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের আতা এলাহী খান মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ঢামেকের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. অসিত চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএসএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ, ঢামেকের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন, নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢামেকের নিউরোসায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, স্ট্রোকের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঢামেক অনেক অগ্রসর হয়েছে। এই রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সরকার আমাদের সবকিছু দিচ্ছে।

মূল প্রবন্ধে রফিকুল ইসলাম বলেন, স্ট্রোক বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর কারণ। এ কারণে লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, চোখে ঘোর দেখা, চেহারা পরিবর্তন হওয়া, বাহু অবশ হওয়া, কথা বলার সময় জড়তা চলে আসা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে গোল্ডেন টাইমের মধ্যে (৩ থেকে ৪ ঘণ্টা) চিকিৎকের শরণাপন্ন হতে হবে। কর্মশালায় জানানো হয়, ১৯৮০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউরোপ বা আমেরিকাতে স্ট্রোকের ৪২ শতাংশ রোগী কমেছে। কিন্তু অনুন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই রোগ শতভাগ বেড়েছে।

স্ট্রোকের প্রতিকার সম্পর্কে বক্তারা বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। স্টোক সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য। স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে ফাস্টফুড ও ধূমপান ত্যাগ করা, ব্লাডপেশার আর সুগার থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা না করে হাসপাতালে নেওয়া ও সর্বোপরি জনসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি