অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক

অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক

স্কিন অ্যান্ড সেক্সুয়াল মেডিসিন স্পেশালিস্ট

এফসিপিএস, এফআরসিপি (যুক্তরাজ্য), ডিডিভি (অস্ট্রিয়া)

 


১০ অক্টোবর, ২০২০ ১২:০৩ পিএম

কিংবদন্তি চিকিৎসকদের মানবিকতার গল্প

কিংবদন্তি চিকিৎসকদের মানবিকতার গল্প
অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম। ফাইল ছবি

মির্জা স্যার। অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম। তিনি MMC তে আমার শিক্ষক ছিলেন।  ৯৬ বছর বয়সেও ৫-৬টা (বিনামূল্যে) অপারেশন করতেন। 

আজ আমি তার একটি অনন্য মহত্বের গল্প বলব আজ। আমাদের এই দেশের জন্য এটা এক বিরল অভিজ্ঞতা।  অত্যন্ত সাহসী, আর মানবিক। আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে এখনকার  করোনার মতো এইডসের ভীতিতে দেশ তখন বির্পযস্ত। 

আমাদের আরেক শ্রদ্ধায় নিবেদিত,খুবই নিবেদিত এক চিকিৎসক ডাক্তার মাসুদ। এক এইডস আক্রান্ত রোগীর হাসপাতাল অত্যন্ত নিভৃতে, অনেক গোপনীয়ভাবে চালাতেন।  কোনও এক এনজিও সামান্য সাহায্য ছিল। 

বতর্মানের খুব বিখ্যাত বক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর খায়ের (azgar ali/BSH) ডাক্তার, খণ্ডকালীন সেবা দিতেন। সে সময় আমি ঢাকা মেডিকেলের চর্ম/যৌন বিভাগের প্রধান। থাইল্যান্ড থেকে ট্রেইনিং নিয়ে  এইডসের এই হাসপাতালে চিকিৎসার সঙ্গে সামান্য  ষুক্ত ছিলাম। শুধু ঔষধ সম্পর্কিত চিকিৎসা।

জাপান-গাডেন সিটির কাছেই ছিল হাসপাতালটি।  খুবই গোপনীয়তা রাখা হত। মানুষ এখানে এইডসের চিকিৎসা মেনে নেবে না, জানা থাকায় এই গোপনীয়তা। 

এক রাতে এক গর্ভবতী মাকে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শে (obstructive labor) নিয়ে এক মা ভর্তি হন।মায়ের অঝোরে রক্তপাত হচ্ছিল, বাচ্চাটির হৃদস্পন্দন কমে যাচ্ছিল। মা আর তার অনাগত সন্তান মৃত প্রায়।

ঢাকা মেডিকেলে বা এদেশে তখন কোথাও  অপারেশন লাগে সেই চিকিৎসা (operative) গড়ে ওঠেনি।  কোনোও ডাক্তারের অপারেশন করার অভিজ্ঞতা ছিল না।অবশ‍্য এর জন্যে তোড়জোড় হচ্ছিল। এটা  এখনকার মত কভিকের মত নয়, সামান্য ভুল হলেই নিশ্চিত  মৃত্যু।

সকল বিপদের ত্রাতা এই  এই মহান চিকিৎসককে গোপনে জানালে তিনি প্রথমত অনেক দ্বিধান্বিত থাকলেও, অন‍্য কোথায়ও তখনও এইডস রোগীর শৈল‍্য চিকিৎসা হয় না জেনে জেনে এত বড় সার্জন হয়েও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে এতে রাজি হন। জীবনের সকল অভিজ্ঞতা উজাড় করে, মা ও সন্তান উভয়েই বাঁচান।

আমি নিশ্চিত মহান আল্লাহ এর অপরিসীম দয়া তিনি পাবেন। এই বিষয়টি কাউকে  ঘুণাক্ষরেও প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।কিছুদিন সব অপারেশন বন্ধ রাখেন।সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক ইচ্ছায় কিছুই হয়নি তার।

গোপনীয়তা নিয়ে তার ইচ্ছা আমাকে অস্বস্তি দিচ্ছিল।

কয়েক বছর আগে ডায়াবেটিস হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এক এইডস দিবসের অনুষ্ঠানে প্রফেসর কাসেম খন্দকার ও প্রফেসর খায়ের সাহেব উপস্থিত ছিলেন। আমি ছিলাম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে। দেশের অনেক কিংবদন্তি চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে স্যারের অনুরোধ উপেক্ষা করে ওই অনুষ্ঠানে আমি নিভৃতচারী ডাক্তার মাসুদকে পরিচয় করিয়ে দিই।

সর্বশক্তিমান যেন এই নশ্বর পৃথিবীতে তাকে অনেক দিনের হায়াত দেন।

স্বাস্থ্য প্রশাসনে অন্য ক্যাডার

কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি পেশাজীবী চিকিৎসক নেতাদের

জামাই-শ্বশুর মিলে ভুয়া চিকিৎসা

তৃতীয় শ্রেণি পাস করেই ‘বিশেষজ্ঞ’ চিকিৎসক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত