চিকিৎসককে ধর্ষণের দায়ে তিন জনের মৃত্যুদণ্ড
মেভিয়েস রিপোর্ট: অটোরিকশা থেকে নামিয়ে এক চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে রাজবাড়ীতে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শারমীন নিগার এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো: রানা মোল্লা (২৬), মামুন মোল্লা (২২) ও হাসান সরদার (২৮)।
রানা ও হাসানের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিসপুর গ্রামে। আর মামুন খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সকল আসামি ও বাদীর উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) উজির আলী শেখ বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে ওই তরুণী চিকিৎসক গোপালগঞ্জের পথে রওনা হন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাস ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে অটোরিকশায় তোলে চালক রানা মোল্লা। ওই অটোরিকশায় আরও দুই বখাটে ছিল। পরে এক নির্জন স্থানে তরুণীকে নামিয়ে চালকসহ তিনজন মিলে ধর্ষণ করে। তাঁরা মুঠোফোনে আরও চারজনকে সেখানে ডেকে আনেন। তাঁরাও তরুণীকে ধর্ষণ করে।
পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে আসামিরা নির্যাতনের শিকার তরুণীকে রাস্তা দেখিয়ে দেয়। তিনি একটি বাসে উঠে ফরিদপুর র্যাব-৮ ক্যাম্পে গিয়ে অভিযোগ করেন। ওই দিনই র্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। ধর্ষণের ঘটনায় তরুণী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বুধবার এ রায় দেন। মামলার অন্য তিন আসামি আনিসুর রহমান, করিম মোল্লা ও কুটি মনিরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।