করোনার উন্নতির ওপর নির্ভর করছে এমবিবিএস পরীক্ষা
মো. মনির উদ্দিন: ঈদের আগে বা পরে নয়, বরং এমবিবিএস পরীক্ষার আয়োজন নির্ভর করছে দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, পরীক্ষার জন্য এসে কেউ সংক্রমিত হলে এর দায় শিক্ষকদের ওপর বর্তাবে। এছাড়া পরীক্ষা ছাড়া মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পরের ক্লাসে উন্নীত করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হলে ভেবে দেখবেন বলেও জানান তারা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রতিটি মেডিকেল কলেজেই এখন কোভিডের একটি সেকশন হয়ে গেছে। আমাদের মেডিসিন বিভাগের সকল শিক্ষক এখন কোভিডে কাজ করছেন। আমরা যে শিক্ষার্থীদেরকে ওয়ার্ডে নিয়ে পরীক্ষা নেবো, সেটা এখনও প্রস্তুত হয়নি। এ অবস্থায় তারা ঝুঁকিতে পড়বে। তাদের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে। ওয়ার্ডও নাই, রোগীদের দেখে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা যে পরীক্ষা দেবে সেটাতেও তো ঝামেলা। এছাড়া শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে থাকতে পারবে না। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ও পুরোপুরি কাজ শুরু করেনি। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করে, মূল্যায়ন করে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা, প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা নেওয়ার কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই করোনা পরিস্থিতিতেই আমরা পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছি। তাদের যে ক্লাসগুলো বাকি ছিল সেটা নিচ্ছি। অবস্থার উন্নতি হলে আমরা যখন মনে করবো, এবার তারা ঝুঁকিতে পড়বে না, তাদেরকে নিরাপদে রাখতে পারবো, তখন অবশ্যই পরীক্ষার ব্যবস্থা করবো।’
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিটিং হয়েছে জানিয়ে ঢামেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘এখানে ঈদের আগে বা পরে সুনির্দিষ্ট করে কোনো সময় দেওয়া হয়নি। এটা মূলত অবস্থার উন্নতির ওপর নির্ভর করছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে হবে। পরীক্ষার জন্য নিয়ে এসে তারা সংক্রমিত হয়ে গেলে এর দায় আমাদের মাথায় আসবে। এই কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৭২ ব্যাচের যারা ডাক্তার হয়েছেন, বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন—করোনার কারণে তারা ইন্টার্নশিপের জন্য আসছেন না। এ অবস্থায় শিক্ষকরা তো কাজ করছেনই। কিন্তু ছাত্রদের নিরাপত্তা দেবো কি করে?’
ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া পরের ক্লাসে উন্নীত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এমন করে ভাবা যায় কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিহারের কথা আমরা শুনেছি। আইম নট শিওর। ভারত যদি সামগ্রিকভাবে এটা করে থাকে এবং তাদের মেডিকেল কাউন্সিল এটা মেনে নেয়, তাহলে আমরাও দেখবো, বিষয়টি নিয়ে বসবো। তবে আমরা এখনো এ রকম ভাবছি না, দেখবো।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মেডিভয়েসকে বলেন, ‘পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে কোনো সমস্যা নাই। সরকার যদি মেডিকেল কলেজ খুলে দেয় তাহলে আমরা পরীক্ষা নিয়ে নেবো। কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে যে তারা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয় তো কলেজ খুলতে পারবে না, ছাত্রদের ক্যাম্পাসে আসার অনুমতিও দিতে পারবে না। গতকালও (১৯ জুলাই) এ নিয়ে মিটিং হয়েছে, কলেজ খুললে পরে পরীক্ষার প্রশ্ন আসবে। ডিনদের পক্ষে যেটা করা সম্ভব, সেটা হলো পরীক্ষার সময়টা সংক্ষিপ্ত করা। আগে যেটা ১০ দিনে হতো এখন তা পাঁচ দিনে সম্পন্ন হবে। আগে শিক্ষকদের একটি গ্রুপ নিয়ে পরীক্ষা হতো এখন প্রয়োজনে একাধিক গ্রুপের সমন্বয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে সময়টা বাঁচানো যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যখন কলেজগুলো খুলে দেবে তখনই আমরা প্রক্রিয়া শুরু করে দেবো। এছাড়া যেসব পরীক্ষা অর্ধেক হয়ে আছে সেগুলো নেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
চবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর জানুয়ারির প্রফের ফলাফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় পরিবেশ ফিরলে ঈদের পরে প্রফ পরীক্ষার আয়োজন করা হলে জানুয়ারির ফলাফল প্রকাশে কোনো জটিলতায় পড়তে হবে কিনা?
এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এর মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন ও টেবোলেশন শিট তৈরি—সবই দ্রততম সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে। ছাত্রদের স্বার্থে আমরা সবই করে ফেলবো। প্রয়োজনে রাত-দিন কাজ করবো। ফলাফল প্রকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হতে হবে।’
চবি চিকিৎসা অনুষদের ডিন আরও বলেন, ঢাকার সঙ্গে দুইবার আলোচনা হয়েছে। এসব বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব ও বিএমডিসির চেয়ারম্যান ছিলেন। এখানে আলোচনা হয়েছে কিভাবে পরীক্ষাগুলো নেওয়া যাবে। সবার কথা হলো—কলেজ খোলার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সিদ্ধান্ত জানতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ডিন ডা. এস এম আব্দুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করে মেডিসিন অনুষদ। তবে মেডিসিন অনুষদে একাধিকবার চেষ্টা করেও ডিন ডা. শাহরিয়ার নবীকে অফিসিয়াল ফোনে পাওয়া যায়নি।