০৯ জুলাই, ২০২০ ০৭:৫৫ পিএম

নমুনা সংগ্রহকারীদের অনেক সময় বাধা দেওয়া হয়: প্রধানমন্ত্রী

নমুনা সংগ্রহকারীদের অনেক সময় বাধা দেওয়া হয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মীদের অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ তাদের আঘাতও করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেস্ট করার জন্য খুব ভালো টেকনিক্যাল লোক দরকার হয়। এই লোক পাওয়া কঠিন। কারণ বাড়িতে গিয়ে তারা নমুনা সংগ্রহ করছে, তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় পাড়ার লোক ঢুকতে দেবে না, বাড়িতে যেতে দেবে না, তারা নমুনা নিতে দেবে না। এই ধরনের প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এমনকি যারা নমুনা সংগ্রহকারী, তারা এক সময় ওই সব পোশাক খুলে ব্যাগে নিয়ে রোগীর বাড়ি ঢোকার মুখে ওগুলো পরে দরজায় নক করেছে এবং তাদের নমুনা সংগ্রহ করেছে। অনেক সময় সাধারণ মানুষ তাদের আঘাতও করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই খবর তো অনেকেই রাখেন না। আমাদের বিরোধী দল অনেক কথা বলেছে। তারা কিন্তু এই খবরটা কোনোদিন রাখে না। হয়তো আজকেই প্রথম শুনলেন যে, এই রকম ঘটনাও ঘটেছে বাংলাদেশে, যে নমুনা সংগ্রহকারীদের যেতে দেয় না। তাই যারা এই দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের সকলকেই আমাদের দেখতে হবে এবং তাদেরকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

বক্তব্যে করোনাভাইরাসকে জয় করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আওয়ামী লীগ ও দলের সব সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য যেসব কাজ করে যাচ্ছেন, তা তুলে ধরেন তিনি।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে সংসদ নেতা বলেন, ‘ঘরে বসে সমালোচনা, বাজেটের খুঁত ধরা, কাজের খুঁত ধরা সেগুলো অনেকেই ধরতে পারেন, এটা ঠিক। কিন্তু মাঠে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করা, এই কাজগুলো কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক যারা, আমরাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে দেশের মানুষের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’

করোনাভাইরাস সংকটে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। পাশাপাশি আরও দুই হাজার ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া হেলথ টেকনোলোজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্টের তিন হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সেগুলোও দেব।’

‘ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের থাকা-খাওয়াসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে’ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘সেখানে খরচ তো হবেই। তবে এটা সত্য যে, বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে পঁচাত্তরের পর যারা রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালোটাকা শিখিয়েছে, ঋণখেলাপি শিখিয়েছে, তারা সমাজকে কলুষিত করে দিয়ে গেছে।’

এসময় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই সংসদ অধিবেশনে যারা আসছেন তাদের সকলের করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এখন একটু আশ্বস্ত হয়ে চলতে পারবেন। তাছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও সাবেক হুইপ করোনা জয় করে ফিরে এসেছেন। করোনা জয় করার জন্য মনে সাহস রাখতে হবে। বস্ত্র-পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করা হবে।’

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো মেনে চলুন। সর্দি কাশি জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দানকারী হটলাইন গুলোতে ফোন করুন। আইইডিসিআর হটলাইন- 10655, email: [email protected]
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি