করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
টুঙ্গিপাড়ায় চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর জেরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অপূর্ব বিশ্বাসের ওপর হামলা ও বেধড়ক মারধর করেছে রোগীর স্বজনরা। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের পক্ষে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়া সদরের কেড়ালকোপা গ্রামের কাজী আলমগীর ৭-৮ দিন যাবত জ্বর ও শ্বাস কষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন । তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার কার্যক্রম শুরু করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। তার কিছুক্ষণ পরেই তিনি সেখানে মারা যান। তখন রোগীর আত্মীয় গাজী তরিকুলসহ কয়েকজন দ্বায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অপূর্ব বিশ্বাসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া তারা নার্সদের উপর তেড়ে যান।
হামলার শিকার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, শনিবার সকালে ৭ দিনের জ্বর, কাশি, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য করোনা উপসর্গ নিয়ে কাজী আলমগীর হোসেন (৬৫ বছর) নামে এক রোগী জরুরী বিভাগে আসেন। জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক হিসাবে আমি যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে রোগীর রোগ বৃত্তান্ত শুনে ও অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থাপত্র দিয়ে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ভর্তি দিই। রোগী ভর্তির প্রায় ২৪ ঘন্টা আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং তা রাতে অনেক বেড়ে যায়। ভর্তির পূর্বেই রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হলেও তথাপি রোগীর স্বজনদের অনুরোধে তাকে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, একই সময় চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অন্য এক রোগী আসেন। পূর্বোক্ত রোগীকে আন্তঃবিভাগে ভর্তি দিয়ে এই রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারেল কাগজ প্রস্তুত করার সময় পূর্বোক্ত রোগীর ছেলে এসে জানায় রোগীর শ্বাসকষ্ট কমছে না, তখনই রোগীর কাছে আমি ছুটে যাই। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে উক্ত রোগী তখন মৃত্যুবরণ করেন। রোগীর স্বজনদের কাছে মৃত্যু ঘোষণার পর তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আমার মুখমণ্ডল, মাথা, গলায় আঘাত করে এবং আমাকে চেপে ধরে। তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। এ সময় নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ অন্যান্য কর্মচারীরা আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাদের উপরও হামলা করে। এ অবস্থায় অন্যান্য সাধারণ রোগীরাও ভিত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে। পরে আমি প্রাণ রক্ষার্থে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইয়ার আলী মুন্সী বলেন, শনিবার সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ওই রোগী টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কেরাইলকোপা গ্রামের কাজী আলমগীর হাসপাতালে আসে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করার কার্যক্রম শুরু করি। এরই মধ্যে ওই রোগীটি সকাল ৮টার দিকে মারা যায়। রোগীর আত্মীয় গাজী তরিকুল ও তার সাথে আসা ৩/৪ জন লোক কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অপূর্ব বিশ্বাসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ডাক্তারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সকল চিকিৎসকের মতামত সত্বেও করোনা কালীন সময়ে চিকিৎসা সেবা ব্যহত করে আমরা কোনো কর্মসূচি না দিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, চিকিৎসকের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। চিকিৎসকের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।