শেবাচিমে করোনা আক্রান্ত নারী চিকিৎসককে যৌন হয়রানি, তদন্তে কমিটি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে কর্মরত দুই ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে হয়রানির শিকার ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার পর অক্সিজেন সিলিন্ডার চেক করার জন্য দিনের বেলায় ওয়ার্ড বয়েরা ৪/৫ বার আমার রুমে আসে। আমি মনে করেছি, এতবার এসে সিলিন্ডার চেক করা হয় তো তাদের দায়িত্বে মধ্যেই পড়ে। এরপর রাত ২টার দিকে আমার রুমে কেউ একজন ধাক্কা দেয়। লাইটগুলো অফ ছিল। ঘুম ভাঙার পর ভেন্টিলেটরের গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখি পিপিই পরা দুইজন লোক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।’
পরিচয় জানতে চাইলে তারা বললো, ‘ম্যাডাম আমরা ওয়ার্ড বয়। আমাদের একজন কলিগ এখানে ভর্তি আছে, তাকে খোঁজার জন্য এসেছি। আমার কাছে মনে হলো, ওরা তো এখানকার স্টাফ। তাদের কলিগকে খোঁজার জন্য নার্সের সাহায্য নিলেই তো হয়। তখন আমি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলি, আশ্চর্য রাত ২টার সময় আপনাদের কলিগকে খুঁজতে আমার দরজা নক করছেন, এটা কোনো কথা হলো? এখানকার স্টাফ হিসেবে আপনারা তো ভালো করেই জানেন, সিস্টারকে বললে কোন রোগী কোথায় আছে তা তারা বলে দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তারা দাঁড়িয়ে আমার সবগুলো কথা শুনলো। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই আমি এতো রাতে দরজা খুলিনি। আমার কথা শেষ হওয়ার ৪/৫ মিনিট পরে তারা ওখান থেকে সরে যায়। আমি অবাক হয়েছি, এর পর তারা আর কোনো রুমে তাদের তথাকথিত কলিগকে খুঁজতে নক করেনি। এতক্ষণে তাদের খারাপ উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পেরে অনেকটাই ভেঙে পড়ি আমি। এরপর রাত ৩টা ১৯ মিনিটে একইভাবে আমার দরজায় নক করা হয়। এরপর তৃতীয় দফায় নক করে তারা। এ সময়টা মনে নেই। এ ঘটনার পর ফজরের নামাজের জন্য অযু করতেও আমি বাইরে যাইনি।’
ঘটনাটি তাঁর সহকর্মীদের এবং হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাকির হোসেনকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড হয়ে আছি। হ্যালোসিনেশন ডেভেলপ করেছে। সারাদিন মনে হচ্ছে, কে যেন দরজায় এসে নক করছে। ২১ মার্চ থেকে আমার ইন্টার্ন শুরু হয়েছে। তখন থেকে একদিনের জন্যও বাসায় যাইনি। কারণ আমি চেয়েছি, সেবা দিতে গিয়ে আমি আক্রান্ত হলেও আমার বাবা-মা যেন আক্রান্ত না হন। ঈদে পর্যন্ত বাসায় যাইনি। সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলাম, এটা পেশার অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছি। ছাত্রাবাস থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন আছি। পরিচিত মুখগুলো দেখতে পারছি না। এর মধ্যে এই যে একটা মেন্টাল ট্রমা, এটা নেওয়ার মতো মানসিক ও শারীরিক কোনো সক্ষমতাই আমার নেই।’
এদিকে এ ঘটনা তদন্তে হাসপাতালের এক সহযোগী অধ্যাপককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক বলেন, করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ইন্টার্ন চিকিৎসক গত ৩০ জুন যৌন হয়রানির ঘটনা উল্লেখ করে দুই ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। পরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়।
ডা. বাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালের এক সহযোগী অধ্যাপককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪