২০ জুন, ২০২০ ০৮:২৯ পিএম

সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় এফডিএসআর’র ১০ দফা দাবি

সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় এফডিএসআর’র ১০ দফা দাবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হার। করোনায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় ভাইরাসটির মোকাবেলায় সরকারের তরফ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। আর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে জীবনের ঝুঁকি কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর মধ্যে হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হামলায় ঘটছে চিকিৎসকের প্রাণহানির ঘটনা।  

এ রকম সময়ে মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ করতে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর)।

আজ শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন ও মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবিত দশ দফা দাবিগুলো হলো: 

১. করোনা মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গুলো অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করে তাদের সুপারিশ সময় বেঁধে দিয়ে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। 

২. করোনা মোকাবেলায় সফল দেশগুলোর উদাহরণ আমাদের সামনে আছে। প্রয়োজনে সেসব দেশ থেকে সহায়তা নিতে হবে।  

৩. একই শহরের ভেতরে তিন রঙের জোন না করে বরং পুরো শহর/(জেলা) যেমন: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ হটস্পট শহর/জেলাসমূহে কঠোরভাবে চার সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণ লকডাউন পালন করতে হবে। এসময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র এবং চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যতটা সম্ভব টেস্ট করতে হবে। চার সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে লকডাউনের পরবর্তী সম্প্রসারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

৪. কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে যে সব ডাক্তাররা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের প্রণোদনার অর্থ দ্রুত প্রদান করবার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। কোভিড-১৯ এ মৃত্যুবরণকারী বেসরকারী ডাক্তারদের জন্যও প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।  

৫. কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে ‘চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করুন। এই আইনে সকলের মতামত নিন এবং আলাদা আইন করুন। এর সাথে কোন ক্লিনিক, প্যাথলজি ল্যাব বা ব্যবসাপরিচালনাকে সংযুক্ত না করে, কেবল স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা বিধান করুন। সেইসাথে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘হেলথ পুলিশ’ গঠন এখন সময়ের দাবি।  

৬. কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মানসম্মত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী (পিপিই) প্রদান করতে হবে। পিপিইর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে তা সহজলভ্য করতে হবে ও মুনাফালোভীদের অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।  

৭. সকল চিকিৎসকের ন্যায্য বেতনভাতা নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে বেতন ও বোনাস কর্তন, অন্যায় ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। কম বেতন দিয়ে অতিরিক্ত শ্রমঘণ্টা কাজ করানো বন্ধ করতে হবে।  

৮. জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাবার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষাকেও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। 

৯. সারাদেশ ব্যাপী দরিদ্রদের মধ্যে/চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সম্মুখযোদ্ধাদের জন্য বিনা মূল্যে/অন্যদের জন্য ন্যায্যমূল্যে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করতে হবে।  

১০. করোনা মোকাবেলায় প্রতিটা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারের আদেশ মেনে চলাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যখাতের বিরাজমান অব্যবস্থা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি করছে। স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গণমাধ্যমে স্ববিরোধী বক্তব্য মানুষকে হতাশ করে এবং এ কারণেই জনগণ লকডাউনসহ নানা বিষয় অমান্য করে। কারন তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘদিন যাবত আমরা লক্ষ্য করছি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানেই হস্তক্ষেপ করেন, সেখানে অব্যবস্থা দূর হয়। অথচ তাকে নানা বিষয়ে সম্যকভাবে অবহিত করা হয় না। আমরা দেখেছি, তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে মানহীন মাস্ক, ডাক্তারদের আবাসন, গরিবদের মধ্যে সরাসরি অর্থবিতরণসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি সরাসরি চিকিৎসকদের প্রণোদনা দিয়েছেন এবং সামনে থেকে চিকিৎসকদের উৎসাহ দিয়েছেন, অভিভাবকের মতো সতর্ক করেছেন আবার স্নেহভরে প্রশংসা করেছেন। স্বাস্থ্যখাতের উচ্চপদগুলোতে কিছু পরিবর্তনও এনেছেন। আমরা এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

এতে বলা হয়েছে, ‘আশা করি তিনি পুরো স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিক বিশ্বের মতো করে ঢেলে সাজাবেন। এই কাজে তাকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে জড়িত সকলে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এফডিএসআর ও তার সাথে সম্পৃক্ত ছেচল্লিশ হাজার চিকিৎসক বিশ্বাস করেন তিনি বাংলাদেশকে একুশ শতকের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে দিতে সক্ষম। এই কাজে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা তার নেতৃত্বে কাজ করতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে এফডিএসআরের পক্ষ থেকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ আমাদের যৌক্তিক বক্তব্য সব সময়ই তাদের লেখনীতে ও ক্যামেরায় উপস্থাপন করেছেন। আমরা আপনাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত