জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন শুরু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগামী অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য এ বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন তিনি।
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের দুর্যোগে বিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা সামনে রেখে আগামী নতুন অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী। এবারের বাজেটের শিরোনাম ঠিক করা হয়েছে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’।
এর আগে দুপুরে এ বাজেটে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এক বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আগামী বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ১০ মন্ত্রী। তারা হলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার বিভাগমন্ত্রী তাজুল ইসলম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এতে অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষরের পাঠানো হয়।
বাজেটে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জরুরি, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সব ধরনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আগামী বাজেট করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। এ বছর এক কঠিন সময়ে আমরা বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। তাই আগামী বাজেটের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে- দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং সচল রাখা।’
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বাজেটে জরুরি, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সব ধরনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে করে করোনায় যা ক্ষতি হয়েছে তা কমানো যায়। এ বাজেট দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৪ ভাগ বেশি। টাকার অংকে যা ৬৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা বেশি। চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে এর আকার দাঁড়ায় ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।
গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব খাত
নতুন অর্থবছরের এডিপিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া ১০টি খাত হচ্ছে: ১. পরিবহন; ২. অবকাঠামো, পানি ও গণপূর্ত; ৩. বিদ্যুৎ; ৪. শিক্ষা ও ধর্ম; ৫. বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; ৬. পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান; ৭. স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ; ৮, কৃষি; ৯. পানিসম্পদ ও ১০. জনপ্রশাসন। এই ১০ খাতে বরাদ্দ মোট এডিপির ৯৩ দশমিক ১৯ ভাগ।