৩১ মে, ২০২০ ০১:২৯ পিএম

এ বছরেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন: চীন

এ বছরেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন: চীন
ছবি: রয়টার্স

মেডিভয়েস ডেস্ক: কোভিড-১৯ ঠেকাতে এ বছরের শেষ নাগাদ একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির একটি সরকারি সংস্থা এমন ঘোষণা দিয়েছে বলে শনিবার (৩০ মে) ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ৬০ লাখ মানুষকে সংক্রমিত করা এবং বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত করা এ ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে প্রথম হতে তৎপর চীন। 

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অ্যাসেটস সুপারভিশন অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশন (এসএএসএসি) শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ বা ২০২১ সালের শুরুতে রাষ্ট্র-অনুমোদিত দুটি সংস্থার তৈরি একটি ভ্যাকসিন প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে উহান ইনস্টিটিউট অব বয়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস ও বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা দুটি প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করেছে এবং দুই হাজার ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দিয়েছে।

এসএএসএসির তথ্য অনুযায়ী, বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের উৎপাদনের সক্ষমতা প্রতিবছরে ১০ কোটি থেকে ১২ কোটি ডোজ। এখন পর্যন্ত চীনের ৫টি ভ্যাকসিন মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি থেকে মুক্তি পেতে দেশটির স্বাস্থ্য সংস্থা, নিয়ন্ত্রক, গবেষক দল থেকে শুরু করে ছোট ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত দলগতভাবে অতিরিক্ত সময় পরিশ্রম করে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বেইজিংভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের গবেষকেরা তাঁদের করোনাভ্যাক নামের ভ্যাকসিনটি প্রায় শতভাগ সফল হবে বলে দাবি করেছেন। সংস্থাটি ১০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে একটি বাণিজ্যিক প্ল্যান্ট তৈরি করছে।

সিনোভ্যাক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাদের তৈরি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটি বর্তমানে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। তৃতীয় ধাপ শুরু করতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে কোনো চীনা ভ্যাকসিনের প্রত্যাশা–পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় আগ্রাসী মনে হচ্ছে। কারণ, ধারণা করা হচ্ছিল ভ্যাকসিন তৈরিতে এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (এনআইএআইডি) পরিচালক অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, এফডিএর দ্রুত ভ্যাকসিন পরীক্ষাগুলোর পর্যবেক্ষণ বলছে, কোভিড-১৯–এর ভ্যাকসিন নভেম্বরের মধ্যে তৈরি হতে পারে। ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালাতে হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগ ১০ কোটি ডলারের সিরিঞ্জ ও সুই ফরমাশ দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১০০টির বেশি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে ১০টি মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে এসেছে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
ওজিএসবির ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বক্তারা

তৃণমূলে নিরাপদ প্রসবে বড় প্রতিবন্ধক জনবল ও অবকাঠামো সংকট

ওজিএসবির ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বক্তারা

তৃণমূলে নিরাপদ প্রসবে বড় প্রতিবন্ধক জনবল ও অবকাঠামো সংকট

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও