২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৪৫ পিএম

ক্যান্সার ভ্যাকসিনের বড় সাফল্য: ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

ক্যান্সার ভ্যাকসিনের বড় সাফল্য: ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ
ছবি: এআই জেনারেটেড

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ ভ্যাকসিন। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার তৈরি এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেলানোমা অপসারণের পর রোগীদের ক্যান্সার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। পেমব্রোলিজুম্যাব নামের ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে ব্যবহার করা এই ভ্যাকসিন রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি করা হয়।

ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজির বার্ষিক কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনটিসমেরান নামের এই চিকিৎসামূলক ক্যান্সার ভ্যাকসিনটি পেমব্রোলিজুম্যাব নামের ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে চিকিৎসা নেওয়ার দুই বছর পর ৮২ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসারমুক্ত থাকার পাশাপাশি রোগের পুনরাবৃত্তি ছাড়া বেঁচে থাকার হার বজায় ছিল।

এ ছাড়া, এসব রোগীর মধ্যে দূরবর্তী অঙ্গে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি ছাড়া বেঁচে থাকার হার ছিল ৮৮.৫ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে, এই ভ্যাকসিন ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমিয়েছে।

গবেষণাটির প্রধান তদন্তকারী অধ্যাপক জর্জিনা লং বলেন, এটি যেন প্রথম উড়ানের মতো। এর প্রভাব হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শুধু মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নয়, সম্ভাব্যভাবে সব ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই।

কীভাবে কাজ করে এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার ভ্যাকসিন?

ইনটিসমেরান একটি বিশেষভাবে তৈরি ক্যানসার ভ্যাকসিন, যা প্রত্যেক রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদাভাবে প্রস্তুত করা হয়।

ক্যান্সার কোষের পৃষ্ঠে অস্বাভাবিক প্রোটিন থাকে, যা একেকটি কোষের জন্য আলাদা পরিচয়চিহ্নের মতো কাজ করে। এই এমআরএনএ ভ্যাকসিন সেই প্রোটিনগুলোর বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে রোগীর রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে সেগুলো চিনতে শেখায়। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষগুলোকে শনাক্ত করতে, আক্রমণ করতে এবং ধ্বংস করতে প্রশিক্ষিত হয়।

অধ্যাপক লং বলেন, ‘এটি এমআরএনএ প্রযুক্তি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা এবং অ্যালগরিদম ও তথ্যপ্রযুক্তির এমন এক সমন্বয়, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রথম ইমেইলের মতো, যা যোগাযোগব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আমার মতে, ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এটি তেমন পরিবর্তন আনতে পারে।’

মেলানোমা চিকিৎসায় অগ্রগতি অন্য ক্যান্সার চিকিৎসায়ও কাজে লাগতে পারে

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে মেলানোমা চিকিৎসায় অর্জিত বড় অগ্রগতিগুলো পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মেলানোমা হলো ত্বকের এক ধরনের ক্যান্সার, যা মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ থেকে সৃষ্টি হয়।

অধ্যাপক লং আরও বলেন, ‘অতীতের সাফল্য ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেয়। মেলানোমার চিকিৎসায় অগ্রগতি ফুসফুস, কিডনি, মাথা ও ঘাড়, মূত্রথলিসহ আরও অনেক ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় পরিবর্তন এনেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফলাফল ক্যানসার চিকিৎসার পদ্ধতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এখানে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপায়ে কাজে লাগিয়ে মেলানোমা পুনরায় ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ উদ্ভাবনের ইতিহাসে আগে এমন সাফল্য অর্জিত হয়নি।’

১,১৩৭ জন রোগীর ওপর চালানো হয়েছে পরীক্ষা

এর আগে আগস্ট মাসে মডার্না জানিয়েছিল, তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল ইতিবাচক হয়েছে। এ ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক জর্জিনা লং অস্ট্রেলিয়ার মেলানোমা ইনস্টিটিউটের মেডিকেল ডিরেক্টর এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেলানোমা মেডিকেল অনকোলজি ও ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ বিভাগের প্রধান।

মেলানোমা গবেষণা ও ইমিউনোথেরাপিতে অগ্রণী ভূমিকার জন্য তিনি তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক রিচার্ড স্কোলিয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৪ সালের অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার সম্মাননা লাভ করেন।

তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রও ছিল। এতে মোট ১,১৩৭ জন রোগী অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেলানোমা অপসারণের পর যাঁদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি ছিল, তাঁদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়।

রোগীরা কবে এই ভ্যাকসিন পাবেন?

রোগীদের জন্য ভ্যাকসিনটি সহজলভ্য করার আগে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই এটি চিকিৎসায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র: নিউজ ডটকম ডট এইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মিরপুরে আন্দোলনে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়ার আবেগঘন স্ট্যাটাস

‘পুলিশের পোশাকের আড়ালেও একজন মানুষ থাকেন’

ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাস ও বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের আশা

কাশিমপুর কারাগারে জাপানি প্রযুক্তিতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ

মিরপুরে আন্দোলনে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়ার আবেগঘন স্ট্যাটাস

‘পুলিশের পোশাকের আড়ালেও একজন মানুষ থাকেন’

ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাস ও বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের আশা

কাশিমপুর কারাগারে জাপানি প্রযুক্তিতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও