০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৩০ পিএম

দুই দফা লিথাল ইনজেকশনেও থামেনি হৃদস্পন্দন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড ঘিরে নাটকীয়তা

দুই দফা লিথাল ইনজেকশনেও থামেনি হৃদস্পন্দন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড ঘিরে নাটকীয়তা
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রেমিকের বান্ধবীকে হত্যার দায়ে প্রায় ৩০ বছর আগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ক্রিস্টা পাইকের সাজা কার্যকর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি। দুই দফা লিথাল ইনজেকশন দেওয়ার পরও তার হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে থাকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৪৬ মিনিটে টেনেসির রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবার্বিটালের একটি ডোজ প্রয়োগ করা হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী, সাক্ষীদের কক্ষের পর্দা নামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রায় তিন মিনিট পর পর্দা উঠলে দেখা যায়, পাইক তখনও জীবিত। পরে আবারও পর্দা নামিয়ে তার শরীরে দ্বিতীয় দফা লিথাল ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু এতেও তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

একপর্যায়ে পাইক মাথা তুলে চারদিকে তাকান এবং নিজের কষ্টের কথা জানান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সাধারণত লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তবে পাইকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণের লক্ষণ থাকায় কারাগারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই দফা ওষুধ প্রয়োগের পরও কেন প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সাজা কার্যকরের আগেও নাটকীয়তা

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় বুধবার। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে একটি মার্কিন আদালত তার সাজা কার্যকর স্থগিত করেন। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দেয়।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যে আধুনিক সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মুখোমুখি হওয়া প্রথম নারী আসামি হিসেবে আলোচনায় ছিলেন পাইক।

১৮ বছর বয়সে হত্যাকাণ্ড

১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পাইকের বিরুদ্ধে প্রেমিকের বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস। হত্যার পর নিহতের শরীরে খোদাই করা শয়তানের প্রতীক এবং মরদেহের খুলির একটি অংশ সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর প্রায় তিন দশক ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে আইনজীবীদের যুক্তি

পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদনে তার শৈশব ও মস্তিষ্কের বিকাশসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তাদের দাবি, গর্ভাবস্থায় তার মায়ের অতিরিক্ত মদ্যপানের প্রভাব পাইকের মস্তিষ্কের বিকাশে পড়তে পারে। এর ফলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলেও তারা যুক্তি দেন।

এ ছাড়া শৈশবে পাইক যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন বলেও তার আইনজীবীরা আদালতে উল্লেখ করেন।

পাইক লিথাল ইনজেকশনের পরিবর্তে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলেও জানা যায়। তবে আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমেই তার সাজা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও দীর্ঘ সময় তার শরীরে প্রাণের লক্ষণ থাকার ঘটনায় এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এমআই/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও