৪৮তম বিসিএস
ছাত্রলীগ নেতার নামের সঙ্গে মিল থাকায় গেজেট থেকে বাদ জুলাইযোদ্ধা ডা. নাহিদ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতার নামের সঙ্গে মিল থাকায় ৪৮তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন জুলাই যোদ্ধা ডা. নাহিদুর রহমান। সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে নাম না আসায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার ভবিষ্যৎ। তাঁর দাবি, প্রথম দফায় ভুল পুলিশি প্রতিবেদনে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে সেই ভুল সংশোধন করে সম্পূরক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হলেও নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত হননি তিনি।
বর্তমানে তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই প্রার্থী।
ডা. নাহিদুর রহমান (নাহিদ) সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের (সিওমেক) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের বিডিএস কোর্সের শিক্ষার্থী। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য এফসিপিএস পার্ট-১ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেশিয়াল সার্জারি বিভাগে এমএস কোর্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রথম দফায় বাদ পড়ার পর গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর দেওয়া এক আবেদনে তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান নাহিদ।
নামের মিলেই ভুল শনাক্তকরণ
নাহিদুর রহমানের অভিযোগ, প্রথম দফায় পুলিশি যাচাইয়ের সময় নামের মিলের কারণে তাঁকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তাঁর ভাষ্য, একই কলেজের এক ব্যাচমেট নাহিদুল ইসলাম নাহিদ মেডিকেল কলেজ কমিটির ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। ওই শিক্ষার্থীর ডাকনাম ‘নাহিদ’ হওয়ায় যাচাইয়ের সময় নামের পার্থক্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
জানতে চাইলে ডা. নাহিদুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমার নাম নাহিদুর রহমান। আমার এক ব্যাচমেটের নাম নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, ও মেডিকেল কলেজ কমিটির ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিল। পুলিশ কোনোভাবে ‘নাহিদ’ ডাকনামটি দেখে আমাকে প্রথম দফায় ছাত্রলীগ হিসেবে চালিয়ে দেয়। অথচ ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার কখনো কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।’
পরে দেওয়া হয় সম্পূরক প্রতিবেদন
জানা গেছে, ৪৮তম বিসিএসে গেজেটে নাম না আসা ২১ জনের মধ্যে ১৫ জনই এই কলেজের শিক্ষার্থী। নাহিদ বলেন, তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এলেও তিনি ও সিরাজুম মুনিরা ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও ভুলবশত ওই তালিকায় পড়েছিলেন।
গেজেটে নাম না আসার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের পর তাঁকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি জানতে পারি— বলেন নাহিদুর রহমান।
এরপর তিনি সিলেটের বিশেষ শাখার (এসবি) সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন করেন। তাঁর ভাষ্য, পুনঃযাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং তাঁর নিজের নাম নাহিদুর রহমান—এই পার্থক্য শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি সম্পূরক প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
তবে তত দিনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এবং পুলিশের দুটি পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন থাকায় তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়া আর এগোয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পুনঃযাচাইয়ের পরও নাম নেই গেজেটে
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এনএসআইয়ের মাধ্যমে পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গে পুনঃযাচাইয়ের আওতায় থাকা সিরাজুম মুনিরার নাম গত জুলাইয়ে গেজেটভুক্ত হলেও ডা. নাহিদের নাম আবারও বাদ পড়ে।
তার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি জানতে পারেন, এবার তাঁকে ছাত্রশিবিরের মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
নাহিদুর রহমান আরও জানান, এনএসআইয়ের মাধ্যমে পুনরায় যাচাইয়ের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার একজন যুগ্ম সচিবের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন তিনি। ওই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, প্রতিবেদন পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে আসেনি। পরে সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
এভাবে দীর্ঘদিন পার হলেও তাঁর নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাননি তিনি। বর্তমানে নাহিদুর রহমানের নিয়োগসংক্রান্ত ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখায় রয়েছে।
প্রথম দফায় নামের মিলের কারণে ভুল শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী সময়ে পুনঃযাচাইয়ের পরও গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ডা. নাহিদের নিয়োগপ্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় জুলাই যোদ্ধা ডা. নাহিদের চাকরির ভবিষ্যৎ।
এমআর/