‘নোবেল প্রাইজ ডায়ালগ’ সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেলেন বাংলাদেশি চিকিৎসক তানিয়া রহমান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠেয় সংলাপভিত্তিক সম্মেলন ‘নোবেল প্রাইজ ডায়ালগে’ আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশি কবি ও চিকিৎসক তানিয়া রহমান তনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নোবেল প্রাইজ আউটরিচ এবং দ্য কোরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (কেএএসটি) যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনন্য মঞ্চে ডেভিড ম্যাকমিলান, ব্রায়ান শ্মিট এবং ক্রেগ মেলোর মতো বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সাথে সরাসরি প্যানেল আলোচনা ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনে অংশ নেবেন।
সম্মেলনটিতে এআই কীভাবে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের গতি বাড়াচ্ছে, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থায় নৈতিক পরিবর্তন আনছে—তা সহজ বিশদভাবে আলোচনা করা হবে।
এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে ডা. তানিয়া রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আমি সুযোগ পেয়েছি লেখালেখির জন্য। আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। বর্তমানে বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই কবিতা লিখছি।’
তিনি ২০২২ সালে কলকাতা থেকে বহাবঙ্গ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
ডা. তানিয়া পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও স্কুলে পড়ার সময় থেকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেন তিনি। ১৫ বছর বয়সে তাঁর প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘নবযাত্রা’ প্রকাশিত হয়। ১৮ বছর বয়সে একুশে বই মেলায় তাঁর দ্বিতীয় একক কাব্যগ্রন্থ ‘অপরাজিতা’ প্রকাশিত হয়।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
নওগাঁ জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ডা. তানিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। মানব সেবার পাশাপাশি লেখালেখির চর্চাও চালিয়ে যেতে চান তিনি। ২০২২ সালে বাংলাদেশের ‘মাসিক সময়ের সুর সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ এবং বাংলাদেশের ‘ইউএস বাংলা সাহিত্য সম্মানের’ জন্য মনোনীত হন তিনি। ত্রিপুরা থেকে ‘ত্রিপুরেশ্বরী সাহিত্য সম্মান’ লাভ করেন এই চিকিৎসক। এর আগে নওগাঁ জেলা আবৃত্তি পরিষদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া রংপুর সাহিত্য পরিষদ এবং বিভাগীয় লেখক পরিষদ থেকে সনদপ্রাপ্ত হন তিনি।
শিক্ষা জীবন
তিনি অষ্টম শ্রেণিতে রাজশাহী বোর্ড থেকে স্কলারশিপপ্রাপ্ত হন। নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি জিপিএ-৫ এবং নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হন। রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন তিনি।
এমআর/এমইউ/