১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:১৪ এএম

পিপিপির ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বাস্থ্যশিল্প উন্নয়নে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পিপিপির ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বাস্থ্যশিল্প উন্নয়নে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
বিএফএ গ্লোবাল হেলথকেয়ার ফোরাম হাইকো সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বাস্থ্যশিল্পের উন্নয়ন ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে যৌথ বিনিয়োগ, ওষুধ উন্নয়ন ও চিকিৎসা গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে এশিয়ার অভিন্ন স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘সিল্ক রোড অব হেলথ’র আওতায় চীনের সহযোগিতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান মন্ত্রী।

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইনান প্রদেশের হাইকোতে অনুষ্ঠিত বোয়াও এশিয়া ফোরাম (বিএফএ) গ্লোবাল হেলথকেয়ার ফোরাম ২০২৬ হাইকো সম্মেলনের ‘অভিন্ন আঞ্চলিক উন্নয়নে স্বাস্থ্যশিল্পে সহযোগিতা জোরদার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এ আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা, সীমিত স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা, চিকিৎসা গবেষণার অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং দক্ষ জনবলের সংকট মোকাবিলায় পিপিপি মডেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার, দেশীয় ওষুধ কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশে ওষুধ উৎপাদন ও চিকিৎসা গবেষণা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এশিয়ার অভিন্ন স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সিল্ক রোড অব হেলথের’ আওতায় শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ চীনের আরো বেশি অবদানকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাই।’ 

তিনি বলেন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যশিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক আঞ্চলিক জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়া ICGEB-এর এলেনা বেনেদেত্তি, WFP China-এর ঝাও বিং এবং China National Biotec Group-এর লি শিউলিং বলেন, কার্যকর পিপিপি কাঠামো ও আঞ্চলিক সহযোগিতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যশিল্পে বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত শিল্প পরিকল্পনা ও অংশীজনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বায়োমেডিসিন ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এর আগে কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের ওষুধ প্রায় ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশের ওষুধের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সহজ করার পাশাপাশি ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পাশাপাশি অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা ও দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বার্ধক্যে রোগ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত ও সুস্থতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এশিয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়ছে। তাই পুনর্বাসন সেবা, সহায়ক প্রযুক্তি, জেরিয়াট্রিক সেবা ও প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একইভাবে টিকা গবেষণা, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা সামনে কতটা ভালোভাবে সহযোগিতা করি, উদ্ভাবন করি এবং যৌথভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিই তার ওপর।’ 

এ সময় এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে চীনের ১৪তম জাতীয় গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের চতুর্থ প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইংসহ চীন, লাওস, মিশর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত