৩১ অগাস্ট, ২০২৬ ১১:০০ এএম

রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ রং ধারণ রহস্যের অবসান

রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ রং ধারণ রহস্যের অবসান
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার সেই নজিরবিহীন ও রহস্যময় ঘটনার জট অবশেষে খুলেছে। গত ২২ জুলাই ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত মাংসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, মাংসের রং পরিবর্তনের পেছনে কোনো পচন, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফরমালিনের সংশ্লিষ্টতা নেই না। মূলত ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে মাংসের নিজস্ব রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তরের ফলেই এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল।

গত ২২ জুলাই সকালে পাইকগাছা পৌর বাজারের কসাই ইসমাইল গাজীর দোকান থেকে মডার্ন বেকারির কয়েকজন কর্মচারী দুই হাজার ৭৫০ টাকায় প্রায় ৪ কেজি গরুর মাংস কেনেন।

প্রতিষ্ঠানের ১৪-১৫ জন কর্মচারীর পিকনিকের আয়োজন উপলক্ষে দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বেকারির বাবুর্চি মসলা কষানোর পর কড়াইতে মাংস দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাংসের টুকরোগুলো গাঢ় সবুজ বর্ণ ধারণ করে।

অথচ মসলা ও ঝোলের রং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও অপরিবর্তিত ছিল। এই নজিরবিহীন ঘটনা জানাজানি হলে মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়।

বেকারির কর্মচারীদের অভিযোগ ছিল কসাই বাসি বা ফরমালিনযুক্ত মাংস বিক্রি করেছেন, অন্যদিকে কসাই ইসমাইল গাজীর পালটা দাবি ছিল কর্মচারীরা অসতর্কতাবশত কোনো রাসায়নিক তরল মিশিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে থানা-পুলিশ ও উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মণ্ডল রান্না করা মাংস এবং বিক্রেতার ফ্রিজে থাকা কাঁচা মাংস জব্দ করেন।

​ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সংগৃহীত নমুনা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, নমুনায় কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী সিউডোমোনাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং মাংসে কোনো পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না।

এ ছাড়া বাহ্যিক কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক বা ফরমালিনের কারণে রং বদলায়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়।

স্পেকট্রো ফটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর বা কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলেই মূলত এই সবুজ রং ধারণ করেছে।

​উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মণ্ডল গণমাধ্যমকে জানান, ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসার পর মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত বৈজ্ঞানিক কারণ এখন পুরোপুরি স্পষ্ট।

ফরমালিন বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের অপপ্রচারের ফলে জনমনে যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, এই বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তার অবসান ঘটল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাংস সংরক্ষণের সময় ও রান্নার তাপমাত্রার বিরল মিথস্ক্রিয়ার কারণে এ ধরনের বিরল ঘটনা কদাচিৎ ঘটতে পারে। এই ব্যাখ্যার ফলে মাংস বিক্রেতা ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চলমান দোষারোপ ও উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক