শতবর্ষী জীবনের অবসান, চলে গেলেন সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এ আর খান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সমাজসেবক মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. আব্দুর রহমান খান মারা গেছেন। যিনি চিকিৎসকমহলে এ আর খান নামে পরিচিত ছিলেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর ছয় মাস। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে চিকিৎসা, সেনাবাহিনী, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, শিক্ষা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন তিনি।
১৯২৫ সালে ঢাকার দোহারের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডা. এ আর খান। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে অবসর নিয়ে নিজেকে শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেন।
১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। ২০২০ সালে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একটি অনুষ্ঠানে তাকে সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে কর্মজীবনের বাইরেও নিজের জন্মভূমি দোহারের মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বিশেষ ভূমিকা রাখেন ডা. এ আর খান। স্থানীয় মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পদ্মা সরকারি কলেজ, মা ও শিশু ক্লিনিক, আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতাল এবং নার্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যেও ‘দাদুস’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি।
শিক্ষা বিস্তারে তার উদ্যোগের অন্যতম নিদর্শন পদ্মা সরকারি কলেজ। নিজ এলাকার মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় তিনি স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মাওলানা আকরাম খান স্বর্ণপদক, ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্বর্ণপদক ও স্যার সলিমুল্লাহ স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
শতবর্ষের দীর্ঘ জীবনে একজন চিকিৎসক, সেনা কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সমাজহিতৈষী হিসেবে বহুমাত্রিক পরিচয় তৈরি করেছিলেন এ আর খান। বিশেষ করে নিজ জন্মভূমি দোহারের মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় তার উদ্যোগ তাকে স্থানীয় মানুষের কাছে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় দোহারের ফুলতলায় অবস্থিত পদ্মা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে খালপাড় খানবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে দোহারসহ দেশের চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে চিকিৎসা ও সমাজসেবায় তার অবদানের কথা স্মরণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনএইচ/