‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহতদের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, তাদের ঘটনায় আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, গত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন বা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের নামে নিজ নিজ এলাকায় একটি করে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিই বহন করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও তুলে ধরবে। এই জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদীদের মুখোশ উন্মোচন করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। বছরের পর বছর অনেকে ঘরছাড়া ছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস তুলে ধরবে। একই সঙ্গে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদীদের মুখোশও উন্মোচন করবে। এই জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
তিনি বলেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে না। এটি বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্কও তুলে ধরবে। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসও এখানে সংরক্ষণ করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসব ইতিহাসও যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বীর ছাত্র-জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষণ করা হবে।
জাদুঘরের জন্য ব্যক্তিগত স্মারক, দলিল, আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম দানকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এই জাদুঘর সমৃদ্ধ করতে নিজেদের সংগ্রহ তুলে দিয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইতিহাস সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান কখনো ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না। তাই জাদুঘরের প্রতিটি তথ্য সর্বোচ্চ ঐতিহাসিক নির্ভুলতা নিশ্চিত করে উপস্থাপন করতে হবে। জাদুঘরে সংরক্ষিত বিষয়বস্তু বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষাতেও উপস্থাপন করা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।
তিনি বলেন, আমি প্রায়ই একটি কথা বলি—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। যেমন জনগণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলে যায়নি, তেমনি ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদেরও কখনো ভুলবে না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধা তাদের শ্রেণি অনুযায়ী নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা দিতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।
তিনি বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার কাজও শুরু করেছে সরকার। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচন ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
জেএইচ/
-
৩ ঘন্টা আগে