‘সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তিনি ভারতের হায়দরাবাদসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এ তথ্য জানান।
একই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের মিডিয়া উইংয়ের একটি পোস্টেও করা হয়। পোস্টটির সঙ্গে অনন্যার চিকিৎসাসংক্রান্ত কয়েকটি নথিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
জামায়াতের মিডিয়া উইংয়ের পোস্টে দাবি করা হয়, মানসিক রোগে আক্রান্ত এক নারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর ইন্ধনে তার বাসভবনে হামলা এবং জনতাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
ভিডিও পোস্টে গোলাম রসুল জানান, তার মেয়ে ২০২০ সাল থেকে সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এবং ভারতের হায়দরাবাদে চিকিৎসা নিয়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে মাসে দুইবার হাসপাতালে নিতে হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) মাদ্রাসার সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়ের কারণে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে তার মেয়ে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে ঘিরে নাজেহাল করেন। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানালেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার মেয়ে ও স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরদিন সকাল প্রায় ১০টার দিকে তিনি মাদ্রাসার এক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় তিনি মাদ্রাসার সামনে চলাচলের রাস্তা খোলা রাখার অনুরোধ জানান। তার দাবি ওই জমি তাদের কেনা এবং এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে রাস্তাটি সচল রাখা প্রয়োজন।
গোলাম রসুলের আরও অভিযোগ, এরপর এলাকার কিছু ব্যক্তি তার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে।
তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার দাবি কিছু ব্যক্তি তার বাসার গ্যারেজে দাহ্য পদার্থ রেখে গেছে, যা থেকে যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এর আগেও ২০২৫ সালে তার গ্যারেজে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
সংসদ সদস্য গোলাম রসুল বলেন, ২০১৬ সাল থেকে তিনি ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং সব সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের চেষ্টা করেছেন।
তার ভাষায়, ‘আমি কারও ক্ষতি করিনি। যদি কোনো ভুল করে থাকি, আমাকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়।’
গোলাম রসুল জানান, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এনএইচ/