২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৫:৪৭ পিএম
ড্যাব নিউরোসায়েন্সেস শাখার পুরস্কার বিতরণীতে প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার
ড্যাবের নিউরোসায়েন্সেস শাখার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা, ক্রীড়া ভাতা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে খেলাধুলাকে সুস্থ জীবনযাপন ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে চিকিৎসকসহ সবার নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিন্স) অ্যান্ড হাসপাতালে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ক্রীড়াচর্চাকে উৎসাহিত করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণে সম্প্রতি ফুটবল টুর্নামেন্টে আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—ড্যাবের নিউরোসায়েন্সেস শাখা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সবার জন্য খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—চিকিৎসকরা সবসময় রোগীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার পরামর্শ দেন, কিন্তু চিকিৎসকদের নিজেদেরও নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন। নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের চিকিৎসকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দক্ষতা ও সেবার মানের কারণে মানুষের আস্থা বেড়েছে, ফলে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর কাজের চাপও অনেক বেশি। সেই আন্তরিক সেবার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

‘খেলাধুলা মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখে। ছোটবেলায় আমরা অনেকেই নিয়মিত মাঠে খেলেছি। কিন্তু বর্তমানে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠের সংকট এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাঠে যেতে উৎসাহিত করেন না’—বলেন তিনি।

‘এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে পেশাগত স্বীকৃতির অংশ হিসেবে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। গত ১০ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিলেট থেকে একযোগে ৬৪ জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। আগামীকাল প্রথম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। প্রথম আসর শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধনও শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

মো. আমিনুল হক বলেন, খেলার মাঠের সংকট দূর করতেও সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় খেলার মাঠ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লক্ষ্য, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে অন্তত একটি করে খেলার উপযোগী মাঠ গড়ে তোলা।

‘আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম মাঠে ফিরুক। তারা যেন মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের অতিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকশিত হয় এবং মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকে। একটি সুস্থ, প্রাণবন্ত ও ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সরকার সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম নীতি হলো—‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খেলাধুলা ও নিয়মিত শরীরচর্চা। মানুষ যত বেশি খেলাধুলা ও শারীরিক ব্যায়ামে অংশ নেবে, ততই নানা ধরনের অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে।

তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য সামনে রেখে চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোকে নিয়ে আন্তঃমেডিকেল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজন সফল করতে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহযোগিতা কামনা করা হয়।’

তিনি বলেন, সরকার খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাদের ক্যারিয়ারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। পাশাপাশি অনেক ক্রীড়াবিদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে আরও বেশি প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিদেশে ক্রীড়াবিদরা যে সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা পান, বাংলাদেশেও সেই পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এমন একটি সময় আসবে, যখন একজন ক্রীড়াবিদ গর্বের সঙ্গে খেলাধুলাকেই নিজের পেশা হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন। একই সঙ্গে পরিবারগুলোও সন্তানদের খেলাধুলায় নিরুৎসাহিত না করে উৎসাহিত করবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান শুধু স্বাস্থ্য খাতে নয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতেই গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংকটময় সময়ে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বহুমুখী উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাই প্রশংসার দাবিদার।

বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা পুরস্কার পাননি, তারাও সমানভাবে অভিনন্দনের যোগ্য। কারণ ব্যস্ত পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেও তারা খেলাধুলায় অংশ নিয়ে ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তার মতে, পুরস্কার পাওয়ার চেয়ে অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের উদ্যোগে এ ধরনের আরও ক্রীড়া ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানগুলোকে সফল করার আহ্বান জানান তিনি।

ড্যাব নিউরোসায়েন্সেস শাখার সভাপতি ডা. রুস্তম আলী মধুর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী।

অনুষ্ঠানে ড্যাবের নিউরোসায়েন্সেস শাখাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ড্যাব নিউরোসায়েন্সেস শাখার পুরস্কার বিতরণীতে প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার

ড্যাব নিউরোসায়েন্সেস শাখার পুরস্কার বিতরণীতে প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত