০২ জুলাই, ২০২৬ ১০:১১ পিএম

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্সদের ওপর হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্সদের ওপর হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ওয়ার্ড বয়দের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এক নারী শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হয়েছেন।

প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বুধবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের আউটডোর ভবনের নিচতলায় সার্জিক্যাল মাইনর ওটির (অপারেশন থিয়েটার) ড্রেসিং রুমে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা হলেন— সিলেটের গোলাপগঞ্জের রনখেলি হয়াগুল গ্রামের তুতিউর রহমানের ছেলে ও সুরমা নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ (২১), দক্ষিণ সুরমার বলদি গ্রামের মো. কাউসার মিয়ার ছেলে ও আল-আমিন নার্সিং কলেজের ছাত্র রবিউল আউয়াল শুভ (২৩) এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চঞ্চল কুমার দাসের ছেলে ও ওয়েসিস নার্সিং ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের ছাত্র প্রীতম রঞ্জন দাস (২৩)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী হাসপাতালে ডিউটিরত এক ইন্টার্ন নার্সিং নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় (আউটসোর্সিং স্টাফ) জামাল ও নিরঞ্জন সরকার অশোভন আচরণ করেন এবং প্রায়ই ইভটিজিং করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ওই ছাত্রীরা বেসরকারি নার্সিং কলেজের ইন্টার্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে জানান। পরবর্তীতে ইন্টার্ন অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্র মো. তাহমিদ ও প্রীতম রঞ্জন দাসের নেতৃত্বে প্রায় ৮ জন শিক্ষার্থী মাইনর ওটির ড্রেসিং রুমে গিয়ে নার্সিং স্টাফ মো. জাহাঙ্গীরের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে যান। কথাবার্তার এক পর্যায়ে ওয়ার্ড বয় জামাল উত্তেজিত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও মারামারি শুরু হয়। মারামারি চলাকালে ওটি রুমের কাচ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। এতে তিন জন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থী আহত হন এবং ওটি রুমের বেশ কিছু জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিং স্টাফ জামাল ও নিরঞ্জন সরকার ইন্টার্ন নার্সিং ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং তাদের উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি নার্সিং স্টাফ মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আগেই অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। গতকালও একই ঘটনা ঘটলে এ বিষয়ে জানতে গিয়ে হামলার শিকার হন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নার্সিং শিক্ষার্থী রবিউল আউয়াল শুভ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের সার্জিক্যাল মাইনর ওটিতে ডিউটিরত এক নারী শিক্ষার্থীকে কয়েকজন ওয়ার্ড বয় ইভটিজিং করেন। এ সময় ডিউটিরত শিক্ষার্থীদের রোল কল নিতে তাদের কলেজ থেকে একজন শিক্ষক এলে তার সঙ্গেও তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আমরা ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ঘটনার সূত্রপাত হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে তারা সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসে। পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমরা সেখান থেকে সরে আসি। হামলায় আমি আহত হই। কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার হাতে গুরুতর জখম হয় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাত চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করে জরুরি বিভাগে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ওটিতে যাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর ওয়ার্ড বয়রা দ্বিতীয় দফায় হামলা চালাতে সেখানে আসে। এ সময় তারা কয়েকজন স্টাফকে মারধর করে। হামলাকারীদের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ওয়ার্ড বয় ও বহিরাগত ছিলেন। আমাদের ওপর হামলা করতে গেলে এক আপু বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়। তার সঙ্গে থাকা একজন শিক্ষার্থীও গুরুতর আহত হন। পরে ওটি রুমে শুয়ে থাকা অবস্থায় তিনজন ওয়ার্ড বয় ভেতরে ঢুকে আমাদের বেধড়ক মারধর করে।’

শুভ আরও বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক আমাদের জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে শনিবার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো আমরা কোনো মামলা দায়ের করিনি।’

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত