টানা ১০ দিন আন্দোলনে সুনামগঞ্জ মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা, দাবি আদায়ে এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালু ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দুই দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে এবার জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
আজ বুধবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষর্থীরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত বছর ১৫ এপ্রিল হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বা পরিকল্পনা জানানো হয়নি।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষা। বর্তমানে কলেজে ছয়টি ব্যাচের শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও হাসপাতাল চালু না থাকায় তারা রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক সংকটের কারণে একাডেমিক ক্লাস, ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও ব্যাহত হচ্ছে।
তারা বলেন, হাসপাতাল চালু না থাকায় শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত হাসপাতাল চালু হলে একদিকে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবাও সহজলভ্য হবে।
শিক্ষার্থীরা তাদের দুই দফা দাবিতে অবিলম্বে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, সব বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি আগামী এক কর্মদিবসের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজনেরও অনুরোধ জানান।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য দ্রুত হাসপাতাল চালু, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং মানসম্মত চিকিৎসাশিক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হাওরাঞ্চলের মানুষ যেন এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা পান, সেটিও আমাদের দাবি। আশা করছি সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাকিব মেডিভয়েসকে বলেন, আমরা টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাইনি। এ পরিস্থিতিতে আজ জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছি। আমরা আশা করি, সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন। অন্যদিকে, আজ আমাদের কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান হোক, যাতে আমরা পুনরায় ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যেতে পারি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চতুর্থ বর্ষের শাহপরান ভুইয়া, তৃতীয় বর্ষের মোহাম্মদ এহসান, দ্বিতীয় বর্ষের মোহাম্মদ নিরব ও ইমতিয়াজ আহমেদ এবং প্রথম বর্ষের ইয়াসির শাফিন ও প্রিতম রাজবংশীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, হাসপাতাল চালুর দাবিতে ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল চালু না থাকায় তাঁদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয় জেলা সদর হাসপাতালে। তবে কলেজ থেকে হাসপাতালটির দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এ ছাড়া যাতায়াতের জন্য কলেজের কোনো বাস না থাকায় নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ২০২৩ সালে কলেজের সঙ্গে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালুর কথা থাকলেও পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুলাই নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই সময়সীমাও বাড়িয়ে হাসপাতালটি ২০২৬ সালে চালু হবে বলে জানানো হয়।
২০২৬ সালেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় গত ২১ জুন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এমআর/