২৬ জুন, ২০২৬ ১২:১২ এএম

ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহর নিয়োগ বাতিল, বেতন ফেরতের নির্দেশ

ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহর নিয়োগ বাতিল, বেতন ফেরতের নির্দেশ
অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদের বিপরীতে উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ‘১৩/৬/২০২৬ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৯তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০/০৬/২০২৪ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভার (আলোচ্যসূচী সিন্ডি, ৯২.৬ ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন) আলোচ্যসূচীর বর্হিভূত, কিন্তু কার্যবিবরনী লিপিবদ্ধ। ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের একজন সদস্যের প্রস্তাবে প্রেক্ষিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। একই সিন্ডিকেটে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করে পুনরায় অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এর নিয়োগ (আজীবন) দেয়া হয়, যা বিধি বহির্ভূত, একই সিন্ডিকেট অধ্যাদেশ সংশোধন করে নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না।’

‘বিধি বহির্ভুত বিবেচিত হওয়ায় ২০/০৬/২০২৪ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম সভায় অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এর অধ্যাপক ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ (আজীবন) বাতিল করা হলো। একই সাথে ২০/০৬/২০২৪ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম সভার তারিখ থেকে অধ্যাপক ইমেরিটাস পদের বিপরীতে উত্তোলিত বেতন ভাতাদি ফেরৎ দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হলো’—বলা হয় অফিস আদেশে।

জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ রাতে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমি এমন একটা চিঠি পেয়েছি। ‘যারা এটা বাতিল করেছে, তারা অনৈতিকভাবে, অন্যায়ভাবে করেছে। পৃথিবীর কোথাও এভাবে একটা সম্মানজনক পদ ছিনিয়ে নেওয়ার নজির নেই।’

তিনি বলেন, ‘যারা আমার এই সম্মান কেড়ে নিয়েছেন, এর মাধ্যমে তারা অসম্মানিত হয়েছেন, নিজেদের ছোট করেছেন, আমি ছোট হইনি। আল্লাহর তরফ থেকে এর বিচার হয়ে যাবে একদিন। আমি ভালো আছি। আমার সারাজীবনের কত অর্জন! আল্লাহই দিয়েছেন। আমার যোগ্যতার চেয়েও তিনি আমাকে বেশি দিয়েছেন। অনেক কিছু পেয়েছি। আমার ১৫টি অ্যাওয়ার্ড আছে—ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড, একুশে পদক, বাংলা একাডেমির ফেলো, বাংলা একাডেমির বিজ্ঞান পুরস্কার। কয়েক জায়গায় আজীবন সম্মাননা আছে।’

‘এ ছাড়াও আমার বই আছে? সাতটা ইন্টারন্যাশনাল পাবলিকেশন আছে দিল্লি থেকে। বাংলায় তিনটি বই আছে’—উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, তারা বললেন, এটা নাকি আমাকে অবৈধভাবে, অন্যায়ভাবে দেওয়া হয়েছে। যারা দিয়েছেন, তারা আমার যোগ্যতাগুলো দেখে করেননি? এমনিই করলেন? অথচ এটা বিভাগ থেকে পাঁচটা ধাপ পার হয়ে যায়; ডিনের চিঠি থাকে, টেকনিক্যাল কমিটি আছে, একাডেমিক কাউন্সিল, পরে সিন্ডিকেট, এর পর পাস হয়ে আমাকে এমিরেটাস অধ্যাপক বানানো হয়। যারা করেছিলেন, তারা কি সবাই অবুঝ?’

‘আর সবচেয়ে অন্যায় হলো এটা তো সম্মানি ভাতা, খুব বেশি কিছু না। অথচ এটা তারা ফেরত চাইছে। আমি হয়তো ফেরত দিতে পারবো, এতে কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু এটা ফেরত চেয়ে ওরা ভালো কাজ করলো? এই টাকা আমার হক। আমি লুটপাট করিনি, ঘুষ খাইনি, সুদ খাইনি, ডাকাতি করিনি। অথচ আমাকে এটা ফেরত দিতে হবে’—খেদোক্তি এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞের।

এ ছাড়াও চিঠিতে অসঙ্গতি রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যেই চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেটা অপূর্ণ। কত টাকা ফেরত দিতে বলেছে, এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলা নেই।’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত