২২ জুন, ২০২৬ ১১:১৬ এএম

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ, মৃত দুই শতাধিক

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ, মৃত দুই শতাধিক
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণের মুখে পড়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছে ইবোলায় এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক লোকের। প্রতিবেশি দেশ উগান্ডায়ও ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগের সংক্রমণ।

আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (আফ্রিকা সিডিসি) প্রধান জ্যাঁ কাসেয়া বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের চেয়েও মারাত্মক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক দাতাদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি খুব শীঘ্রই এই প্রাদুর্ভাব থামাতে না পারি, তবে এটি পশ্চিম আফ্রিকা এবং পূর্ব কঙ্গোতে অতীতের সংক্রমণের চেয়েও ভয়াবহ হবে।’

গত অর্ধশতকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলা ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৪৭ জনের। 

এছাড়া ইবোলার উপসর্গ নিয়ে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৯৫৬ জন রোগী; তাদের মধ্যে ১৬২ নিশ্চিতভাবে ইবোলাতে আক্রান্ত হয়েছেন। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচও আরো জানিয়েছে, প্রতিবেশী উগান্ডায় ইবোলা সংক্রমিত ২০ জনকে  সনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ জন কঙ্গো থেকে ভ্রমণকারী ব্যক্তি। এর মধ্যে ২ জন মত্যুবরণ করেছে।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশনের অপারেশনস ম্যানেজার ব্রুনো মিশোঁ বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি যে এই রোগটি শেষ হতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’

যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে ইবোলা ভাইরাস 

চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি উদ্বাস্তু শিবিরে ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা ঘটে এবং শিশুসহ অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়। সেখান থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতি ইবোলা ভাইরাস।

ইবোলা ভাইরাস কি? 

ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি।  ১৯৭৬ সালে ইবোলা প্রথম শনাক্ত হয় কঙ্গোর  ইবোলা নদীর কাছাকাছি এলাকায়। তখন থেকেই ভাইরাসটিকে সেই নদীর নাম অনুসারে ইবোলা রাখা হয়।

যেভাবে ছড়ায় 

সংক্রমিত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। ইবোলায় আক্রান্তদের দেহ মৃত্যুর পরেও অত্যন্ত সংক্রামক থাকে। যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া মৃতদেহ স্পর্শ করলেও ভাইরাসটি সংক্রমণ করতে পারে।

ইবোলা ভাইরাসের বাহক 

ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার অন্যতম প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না। কেবলমাত্র ভাইরাসটি বহন করে। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইবোলার উপসর্গ

ইবোলার উপসর্গগুলো হলো তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা। এছাড়া ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া অন্যতম উপসর্গ। চুড়ান্ত পর্যায়ে নাক-মুখ ও মলদ্বার দিয়ে তীব্র রক্তক্ষরণ হয় ফলে রোগী মৃত্যুবরণ করে। এজন্য ইবোলাকে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

টিকা ও চিকিৎসা

ইবোলার অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে বর্তমানে কেবল ‘জাইর’ প্রজাতির জন্য অনুমোদিত টিকা রয়েছে। যা হলো—মার্কের ‘এরভেবো’ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ‘সাবডেনো’। তবে ইবোলার লক্ষণ দেখা দেওয়া রোগীদের চিকিৎসায় মূলত রিহাইড্রেশন বা শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা ও রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হয়।

এইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও