বেসরকারি হাসপাতালে নবীন চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে সভা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে কর্মরত এন্ট্রি-লেভেলের চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক, সমন্বিত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
এ লক্ষ্যে বুধবার (১৭ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুম-১ এ একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে শেষ হয়।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) ডা. মো. মাছুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, গত ৮ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার যৌথ বিবৃতির আলোকে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত নবীন চিকিৎসকদের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামোর খসড়া প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত চিকিৎসকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), ন্যাশনাল ডক্টরস অ্যালায়েন্স (এনএইচএ), ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধি হিসেবেও কয়েকজন চিকিৎসক সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এনএইচএ'র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেওয়া ডা. হুমায়ুন কবির হিমু মেডিভয়েসকে বলেন, বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য যে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। বৈঠকে সেই খসড়াই অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘আমরা খসড়ায় কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছি। খসড়ায় চিকিৎসকদের বেতন ২০১৫ সালের পে-স্কেলের নবম গ্রেডের ৯০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে আমরা এটি ১০০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছি। বৈঠকে উপস্থিত সব অংশীজনই তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত নয়’—বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবীন চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে।
এমইউ/এমআর