১৭ মে, ২০২৬ ১০:৪২ এএম
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্বজনদের সংঘবদ্ধ হামলা

ডা. নাসিরকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৬

ডা. নাসিরকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের মামলায় গ্রেপ্তার ৬
ছবিতে রোগীর স্বজনদের হামলায় গুরুতর আহত ডা. মো. নাসির উদ্দিন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডা. মো. নাসির উদ্দিনের ওপর স্বজনদের সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন সলেমান কাজী (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২), জায়েদা বেগম (৬০) ও আয়েশা মনি (১৯)। তাঁরা শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার বাসিন্দা।

পালং মডেল থানার সূত্রে জানা গেছে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ আকরাম এলাহী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এ সময় ইমার্জেন্সি রুমে রোগীদের সেবা দিচ্ছিলেন ডা. নাসির। 

শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন, যার রক্তচাপ ছিল ৬০/৪০ মাত্রার।

রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়। কিন্তু স্বজনরা ঢাকায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং রিস্ক বন্ডে স্বাক্ষর করে রোগীকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি রাখেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকজনিক শকে থাকা এ রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।

এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে স্বজনেরা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো করে। তারা দয়িত্বরত ডা. নাসিরকে বেধড়ক মারতে থাকে।

এতে বাধা দিলে তিনজন আনসার সদস্যও তাদের হামলায় গুরুতর আহত হয়। পুলিশ আসতে আসতে আসতে ডা. নাসিরকে মেরে আধমরা অবস্থায় ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।

হামলায় গুরুতর আহত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে দরজার কাচ ও দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তারা। পরিস্থিতি খারাপ দেখে ডা. নাসির ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন, সেটা ভেঙে তাকে মারতে মারতে বের করে আনে। ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।

রোগীর অবস্থা খারাপ গুরুতর দেখে ঢাকায় রেফার করেছিলেন জানিয়ে আহত চিকিৎসক নাসির ইসলাম বলেন, ‘স্বজনরা রাতে যেতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর পর আচমকা তারা কক্ষে ঢুকে আমার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে।’ 

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক