সাদা অ্যাপ্রনে স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন অধরা, না ফেরার দেশে সোহরাওয়ার্দীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া মাহি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন। সেই লক্ষ্যেই কঠোর পরিশ্রম করে সুযোগ পেয়েছিলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে। কিন্তু সাদা অ্যাপ্রন গায়ে জড়িয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না সুমাইয়া সাবরি মাহির। ডায়রিয়া থেকে কিডনি বিকল হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর রাত আনুমানিক চারটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রাজধানীর হলি ক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর মুগদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন সুমাইয়া সাবরি মাহি। পরে মাইগ্রেশন করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে চলে যান তিনি।
তিনি ছিলেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের ১৭তম ব্যাচের (সেশন ২০২১-২২) শিক্ষার্থী।
প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুতই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার এক পর্যায়ে কিডনি বিকল (একেআই) হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই ভবিষ্যৎ চিকিৎসক।
সুমাইয়া মাহি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শের আলী সাবরীর মেয়ে।
সোহরাওয়ার্দীতে শোকের ছায়া
মেধাবী এই ছাত্রীর অকাল মৃত্যুতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ পরিবারে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহপাঠীরা জানান, মাহি ছিলেন অত্যন্ত নম্র এবং মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের শোক
কর্মকর্তার মেয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমার রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, সুমাইয়া সাবরী মাহি ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় ও মানবিক মেডিকেল শিক্ষার্থী, যার স্বপ্ন ছিল মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা। তার এই অকাল প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের জন্য দোয়া ও শোকাহত পরিবারকে শোক বহন করার তাওফিক চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে এই দুঃসময়ে ইউজিসি পরিবার সবসময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
আজ শুক্রবার বাদ জুমা মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বাইতুল ওহাব জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার সহপাঠী ও আত্মীয়-স্বজনরা অংশ নেন। পরে রায়েরবাজার কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মাহির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার পরিবার ও সহপাঠীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এমইউ/