আইসিইউতে ড্রাগ-প্রতিরোধী ছত্রাক, আইসিডিডিআর,বির গবেষণা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা শহরের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটগুলোতে (আইসিইউ) ড্রাগ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ ছড়িয়ে পড়ছে, যা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আইসিডিডিআর,বির একটি গবেষণায় জানা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের প্রায় সাত শতাংশ ক্যান্ডিডা অরিস বহন করছে, আর এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগী এই ছত্রাকটি হাসপাতালের ভিতরে পেয়েছে।
ঢাকা শহরের একটি সরকারি ও বেসরকারি তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পরিচালিত গবেষণাটি মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় ৩৭২ জন আইসিইউ রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্ডিডা অরিস সাধারণ অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রতি অত্যন্ত প্রতিরোধী, যা চিকিৎসাকে খুব কঠিন করে তোলে। এটি রক্তনালীর সংক্রমণ ঘটিয়ে জীবনসংকটাপন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যারা গুরুতর অসুস্থ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন।
গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, ‘শুধু নবজাতক আইসিইউতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সব ধরনের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে একটি গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং চিকিৎসা সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কঠোর হাত ধোয়ার নিয়ম এবং রোগীদের নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের উপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের ব্যবহার সীমিত রাখলে বর্তমান চিকিৎসা বিকল্পগুলোর কার্যকারিতা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ গবেষণা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মধ্যে ক্যান্ডিডা অরিসের বিস্তার সম্পর্কে আরও বিশদ জানার জন্য বৃহৎ আকারের পরবর্তী গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এমআই/এমইউ