২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ০৬:৪১ পিএম

কুমিল্লায় রেললাইন থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লায় রেললাইন থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার
ডা. কাওসার তাহমিদ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় রেললাইন থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক কাওসার তাহমিদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ডা. কাওসার তাহমিদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তবে তাদের কোনো সন্তান নেই। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারের সময় নাক, মুখ, কান শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।

মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় কুমিল্লা পুলিশ বিভাগ তাঁকে অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

পরে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পিবিআইয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই করা হলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। শনাক্তের পর বিষয়টি ময়মনসিংহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ফাঁড়িকে জানানো হয়।

তবে পরিবারিক বাসা পরিবর্তনের কারণে ময়মনসিংহ পুলিশ তাঁর স্বজনদের তাৎক্ষণিকভাবে খুঁজে পায়নি।

এই অবস্থায় কুমিল্লা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাঁর দাফন সম্পন্ন করে।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহ পুলিশের একজন সদস্য ডা. কাওসার তাহমিদের পরিচয় শনাক্তে সহায়তার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনআইডি-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্ট ডা. তাহমিদের একজন পরিচিত ব্যক্তির নজরে আসে। আর এভাবে প্রকাশ্যে আসে এই তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যুর খবর।

এ ব্যাপারে তার চাচা মোহাম্মদ লিটন আজ সন্ধ্যায় মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ও মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। আমাদেরকে গতকাল বিকাল বেলা তার দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়েছে, আসরের নামাজের পর। সঙ্গে সঙ্গে আমরা রওয়ানা দিয়ে আসি। এসে শুনি উনারা বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তারা দাফন করেছেন। আমরা লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। এখন কি হয় দেখি। লাশ হস্তান্তর করতে তিন দিন লাগবে বলে জানিয়েছে।’

‘ঘটনার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে হাসপাতালে উপস্থিত ছিল। রাতের বেলা এই ঘটনা ঘটে’—জানান তিনি।  

সহপাঠীরা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা পাস করার আগে থেকেই ডা. তাহমিদ দীর্ঘ দিন ধরে গুরুতর মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ওই জটিলতা থেকে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছিল। ওষুধে তার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়। এভাবে থার্ড ও ফাইনাল প্রফ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। মৃত্যুর দুই দিন আগে ঘনিষ্টদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। কিন্তু তখন মনে হয়নি যে, সে আবারও সংকটে পড়ে গেছে। সবার সঙ্গে হাসি মুখেই কথা বলেছে। যে দিন মারা গেছে সেদিন দুপুরেও সবার সঙ্গে সহাস্য ছিল এই ইন্টার্ন চিকিৎসক।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক কাওসার তাহমিদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত