বিএমইউতে প্রিম্যাচিউর শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে জাতীয় কর্মশালা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘প্রিম্যাচিউর শিশুর রেটিনোপ্যাথি (আরওপি) স্ক্রিনিং ও রেফারেল সেবা’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ অক্টোবর) বিএমইউর শহীদ ডা. মিলন হলে এই অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং শেষ হয় পরদিন সোমবার (৫ অক্টোবর)। এতে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ৫০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নবজাতক বিশেষজ্ঞ, স্ত্রীরোগ ও শিশু বিশেষজ্ঞ অংশ নেন।
বিএমইউর নবজাতক বিভাগ ও অফথ্যালমোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রিম্যাচিউর শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধে বিভিন্ন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, শিশু বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান, অফথ্যালমোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ এবং কমিউনিটি চক্ষুবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. দেওয়ান মো. এমদাদুল হক এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আরওপি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক চিকিৎসকও পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই অন্ধত্ব প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
অনুষ্ঠানে নবজাতকের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে অকালে শিশুর জন্মের ঝুঁকি হ্রাস পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিশু মৃত্যুহার কমলেও আরওপি-জনিত অন্ধত্ব এখন নতুন এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতক সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ অপরিহার্য।’
অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার আরওপির ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান, যেমন—অ্যানিমিয়া ও সেপসিস চিহ্নিতকরণ ও প্রতিরোধের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই অপরিণত জন্ম প্রতিরোধ করতে হবে, কারণ এটি শিশু মৃত্যুহার এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’
প্রাথমিক স্ক্রিনিং ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন কোনো অপরিণত শিশুর জন্ম হয়, তখন আমাদের অবশ্যই শিশুটির বিশেষ যত্ন নিতে হবে।’
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ বলেন, ‘এই কর্মশালা অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আরওপি প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির প্রয়োগে নতুন গতি আনবে। অরবিস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় রেফারেল কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব দূরীকরণে সবসময় চোখের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে আছি।’
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কোনো শিশু যেন অন্ধ না হয়। বাংলাদেশে প্রি-ম্যাচিউর শিশুর হার বিশ্বে অন্যতম বেশি, ফলে আরওপি ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।’
অফথ্যালমোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘সময় মতো স্ক্রিনিং, রেটক্যাম ব্যবহার ও অভিভাবক পরামর্শ আরওপি প্রতিরোধে অপরিহার্য। অরবিস ও ইউনিসেফের মতো উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা আরওপি-জনিত অন্ধত্ব রোধে ভূমিকা রাখছে।’
অনুষ্ঠানে বিএমইউ’র অফথ্যালমোলজি বিভাগের ভিট্রিও-রেটিনার সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী আরওপির কারণ, শ্রেণিবিন্যাস, স্ক্রিনিং, চিকিৎসা ও রেটক্যাম ব্যবহারের ওপর আলোচনা করেন।
টিআই/এমইউ