মাইলস্টোন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় বিএমএসএস’র কর্মশালা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘কেয়ার আফটার ক্রাইসিস: হেল্পিং হ্যান্ডস, হিলিং মাইন্ডস’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি (বিএমএসএস) উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ শাখা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি ট্রমা কাটিয়ে ওঠার মানসিক কৌশল শেখানো হয়। এতে অংশ নেয় ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি হাব লিমিটেড-এর মেডিকেল অফিসার এবং কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কো-অর্ডিনেটর ডা. লিসানুল হাসান। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং মানসিক চাপ, ভয় এবং দুঃস্বপ্ন নিয়ে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
ডা. লিসানুল বলেন, ‘শিশুদের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে, তবে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তারা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তাদের কথা শোনা এবং তাদের অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া।’
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলা এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া। খেলাধুলায় আহত হওয়া, পোকার কামড়, হালকা পুড়ে যাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক কী করা উচিত—সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভয়, দুঃখ আর অভিজ্ঞতা খোলাখুলিভাবে প্রকাশের সুযোগ পায়। শিক্ষার্থী মাইশা চৌধুরী জানায়, ‘আমরা যেটা দেখেছি সেটা ভুলতে পারি না। কিন্তু আজ ডাক্তার স্যার যেভাবে বুঝিয়েছেন, মনে হচ্ছে সাহস পাচ্ছি।’
এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য সময়োপযোগী বলে মনে করেন শিক্ষকরা। তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা যে মানসিক চাপে ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে আজকের আয়োজন সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান ভবিষ্যতে তাদের কাজে লাগবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অভিভাবকরা এ কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ‘শিশুরা শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও যেন সুস্থ থাকে—এটাই আমাদের চাওয়া। বিএমএসএসের এই আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করেন তারা।’
আয়োজকরা জানান, ‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতন করতে চেয়েছি না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিতে চেয়েছি।’
আয়োজকরা আশা করছেন, এই কর্মসূচি ট্রমা মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেবে এবং ভবিষ্যতের জন্য তাদের আরও প্রস্তুত করে তুলবে।
টিআই/