মাগুরার সেই শিশু ধর্ষণের বিচার ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মাগুরায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
আজ রোববার (৯ মার্চ) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে শিশুটির সকল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি)। পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার শিশু ও তার ১৪ বছরের বোনকে দেখভালের করতে সমাজসেবা অফিসার নিয়োগ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে শিশুটির পরিবার গণমাধ্যমকে জানায়, কয়েক দিন আগে মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি। সেখানেই বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটির গলা চেপে ধরে ধর্ষণ করে।
অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আনা হয় ঢাকায়। ঢাকার আনার পর তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ)। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ৩ জন মিলে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। শুধু ধর্ষণ নয়, করা হয়েছে গলা টিপে হত্যার চেষ্টাও। অভিযুক্ত হিটু শেখের কঠোর শাস্তির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
সিএমএইচে শিশুটিকে দেখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, দোষীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোচ্চার রয়েছে।
-
০৯ মার্চ, ২০২৫