চার দিনে দুইবার বাতিল হলো সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার রুটিন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চার দিনের ব্যবধানে দুইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষার সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে আবার বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা না নিয়ে পরবর্তী ব্যাচের সাথে পুনরায় পেশাগত পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা অন্যায় ও অযৌক্তিক। তাদের দাবি, চলতি মার্চেই লিখিত পরীক্ষা শেষ না করলে ইন্টার্নিতে পিছিয়ে পড়বেন তারা।
তবে মেডিসিন অনুষদের দাবি, বিএমডিসি প্রণীত মেডিকেল কারিকুলাম অনুযায়ী নভেম্বর-মে স্লটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় রুটিন বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী মে মাসে এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হবে।
মেডিসিন অনুষদ ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে ডিন কার্যালয়। কিন্তু পরদিন সকালে তা বাতিল করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আবারও রুটিন প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, আগামী ১৩ মার্চ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা শুরু হবে। একই সাথে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনও শুরু হয়। কিন্তু একদিনের মাথায় শুক্রবার তা বতিল করে ডিন কার্যালয়।
এ ঘটনাকে ‘ন্যায্য অধিকার লঙ্ঘন’ এবং ‘প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে জানান, বেশ কিছুদিন থেকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করছিলেন তারা। এর মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তা বাতিল হলে বৃহস্পতিবার আবারও দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ডিন অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাক আহমেদের সাথে সাক্ষাত করেন।
এসব শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক দাবি তাঁর সামনে তুলে ধরি। আলোচনার ভিত্তিতে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেন ১৩ মার্চ থেকে পরিপূরক (সাপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা পরীক্ষার রুটিন নিয়ে কোনো দাবি করব না বলেও সম্মত হই। এরপর তিনি ওয়েবসাইটে পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন এবং অনলাইন ফরম উন্মুক্ত করেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে আমরা দেখলাম ডিন তাঁর নিজের দেওয়া কথা ভঙ্গ করেছেন। তিনি পরীক্ষার ফরম ও বিজ্ঞপ্তি বাতিল করেছেন। একই সাথে পরিপূরক পরীক্ষার রুটিনও বাতিল করা হয়েছে।’
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ডিন অফিস থেকে আমাদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা না নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বরং আমাদেরকে জুনিয়রদের সঙ্গে নিয়মিত পেশাগত পরীক্ষায় বসার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’
তারা বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সেশনের শিক্ষার্থীদের বছরে দুটি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকার কথা—একটি মে মাসে, অপরটি নভেম্বর মাসে।
কিন্তু ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের বরাদ্দকৃত একটি পরীক্ষার স্লট ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে, আমাদের নিজেদের পরিপূরক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হলো—যদি ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পেশাগত, পরিপূরক এবং পুনরায় পরিপূরক এই তিনটি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে আমাদের কেন সেই সুযোগ দেওয়া হবে না? আমাদের বরাদ্দকৃত পরীক্ষার স্লট অন্য সেশনের জন্য ব্যবহার করা হলো কেন?’
তারা আরও বলেন, ‘আমাদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু ডিন নয়, আমরা কন্ট্রোলার অফিস থেকেও স্বাক্ষর ও লিখিত অনুমোদন নিয়েছি। ডিন, প্রিন্সিপাল এবং কন্ট্রোলার অফিস—তিনজনই পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে একমত এবং লিখিত অনুমোদনও দিয়েছেন। কিন্তু এখন প্রশাসন বলছে, বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) অনুমতি লাগবে। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ বিএমডিসি কখনোই কোনো কলেজের পরিপূরক বা পেশাগত পরীক্ষায় হস্তক্ষেপ করে না। এটি শুধুমাত্র একটি অজুহাত, যা আমাদের পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য দেওয়া হচ্ছে।’
‘আমাদের সেশনের জন্য বরাদ্দকৃত পরীক্ষার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি একাধিকবার ভঙ্গ করা হয়েছে। এখন অযৌক্তিক যুক্তি দেখিয়ে আমাদের পরীক্ষার সুযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের পরিপূরক পরীক্ষা অবিলম্বে মার্চ মাসেই অনুষ্ঠিত হোক। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে খেলা করা মেনে নেওয়া যায় না’—যোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাক আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএমডিসির মেডিকেল কারিকুলাম অনুযায়ী মে অথবা নভেম্বর সেশনের বাইরে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের আদেশে রুটিন বাতিল করা হয়েছে।
ডিন বলেন, ‘আমরা চেয়েছি যে শিক্ষার্থীদের কোনোভাবে সহযোগিতা করা যায় কিনা। ডিন হিসেবে আমার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু আমার একা সিদ্ধান্তে কোনো কিছু তো হয় না। আবার এখানে একটি কারিকুলাম আছে। কারিকুলাম তো আমি পরিবর্তন করতে পারব না। কারিকুলামের হর্তাকর্তা বিএমডিসি। আবার মন্ত্রণালয় আছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা।’
অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, ‘আমরা কারিকুলাম অনুযায়ী সবকিছু গুছিয়ে আনতে চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সময়ে নিয়মের বাইরে কিছু হয়েছে। কিন্তু আমরা আলোচনা করে এর পক্ষে কারিকুলামে কিছু পাইনি।’
এনএআর/
-
১০ ডিসেম্বর, ২০২১