এফসিপিএস: নম্বরসহ ফল প্রকাশ না করার কারণ জানালেন অধ্যাপক জামাল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) এফসিপিএস পরীক্ষার নম্বর আলাদাভাবে প্রকাশ না করার কারণ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সচিব অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল। সম্প্রতি মেডিভয়েসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় কেউ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। নম্বরের বিষয়টি তিনি কোনোভাবে জানতে পেরেছেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে এই ফলাফলকেই ব্যবহার করেন তিনি। আমি এফসিপিএসে প্রথম পর্ব পরীক্ষায় প্রথম হয়েছি বা দ্বিতীয় হয়েছি ইত্যাদি। এই বিষয়ে আমরা যতভাবেই না করি কিংবা বারণ করি না কেন। তাই এই বিব্রত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্য যারা পাস করেন সবাইকে একই মানদন্ডে তালিকাভুক্ত করে দেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বাহিরের শিক্ষাব্যবস্থায় এমআরসিপি পরীক্ষায় কে প্রথম হয়েছেন কিংবা কে দ্বিতীয় হয়েছেন, তা তারা এভাবে প্রচার করে না। যদিও আমাদের দেশে প্রচার করা হয়।’
বিষয়ভিত্তিক ফল প্রকাশ না করার কারণ
এ সময় বিষয়ভিত্তিক ফল প্রকাশ না করার কারণও ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল। বলেন, ‘এফসিপিএস পার্ট-১ পরীক্ষা পূর্বে তিন পেপারে আলাদা ছিল, আলাদা দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। এক্ষেত্রে তিন পেপারে আলাদাভাবে নম্বর থাকতো। এখন তা একদিনে এক পেপারে তিনটা পরীক্ষা হয়ে যায়। দুইশত দশ এবং তার কাছাকাছি যারা পাচ্ছেন, তারা পাস করছেন। এখানে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই, কে দুইশত পাঁচ বা পনেরো পেয়ে পাস করলো। আবার কে দুইশত পাঁচ, নাকি দুইশ বিশ পেয়ে ফেল করলো, ব্যাপারটা একক। এটি হলো প্রথম পর্বের ক্ষেত্রে। আর চূড়ান্ত পর্বের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীরা বিষয়টা নিজেরাই বুঝতে পারেন। কারণ লিখিত পরীক্ষাতে আমাদের কার্ট অব ভ্যালু আছে। অর্থাৎ গড়ে ১৪ উপরে না পেলে অ্যাস্কিতে (মানদণ্ড) যায় না। আবার অ্যাস্কিতে গড়ে ১৩ উপরে গ্রেড না পেলে ক্লিনিক্যালি যায় না।
‘অতএব যারা পাস করে তারা অনেকটা বুঝে যায়, তাদের নম্বর কত এবং পাস করেছে কিনা। এই পাস ফেলের বিষয়টি আমরা অনেক সময় বলি না। কারণ তাদের মনোকষ্টের কারণ হতে পারে এটি। একটা ছেলেকে আমরা যদি আগে থেকেই অ্যাস্কির নম্বর বলে দেই, তাহলে তাঁর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার উপর তা হয়তো নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ জন্যই আমরা স্বতন্ত্রভাবে নম্বর বলি না।’
নম্বর জানতে টাকা লাগার কারণ
সাক্ষাৎকারে এফসিপিএস পরীক্ষার নম্বর জানতে টাকা লাগার কারণ তুলে ধরেন বিসিপিএস সচিব। তিনি বলেন, ‘ফলাফল যাচাই করার বিষয়টি আমরা সর্বোতভাবে নিরুৎসাহিত করি। কারণ বিসিপিএস পরীক্ষাগুলোতে পাস আর ফেলটাই হচ্ছে সর্বোচ্চ। এই পরীক্ষার ফলাফল এতটা সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঠিক করা হয় বা চেক করা হয়, যার জন্য এখানে ভুল হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তারপরও যদি কেউ মনে করেন তার পরীক্ষা অনুযায়ী কাঙ্খিত ফল হয়নি। তাহলে অবশ্যই তিনি আবেদন করতে পারবেন। জেনে রাখবেন, আমাদের নির্ধারিত এই টাকাতে ..., কারণ আমাদের আবেদনকারীর সংখ্যা এক শতাংশেরও কম। শিক্ষার্থীরা জানেন, ফলাফল যা হয়েছে, তা মানসম্মতই হয়েছে।’
এ ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার কারণটি ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল বলেন, ‘এখন যদি বলা হয়, তাহলে টাকা নিচ্ছেন কেন? তার ব্যাপারে কথা হলো, পাঁচশত টাকার নিচে কোনো ফি হতে পারে না। যেহেতু সকল প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যেমে করা হয়। যারা অনলাইনের মাধ্যেমে এই কাজগুলো করেন। তাদেরকে আমাদের বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয় এবং তারাই একটা বিশাল অংশ ফি হিসেবে নিয়ে যায়। কাজেই এখানে কলেজের নিজস্ব টাকা ইনকামের জন্য বা টাকা রাখার জন্য এই ব্যবস্থা, তা ভাবার সুযোগ নেই।’
অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল বলেন, ‘সাধারণভাবে আমরা মনে করি, যদি কারো মনে হয় তিনি সঠিকভাবে মূল্যায়িত হননি, তার আবেদন করার অবশ্যই সেই সুযোগ থাকবে। কিন্তু তার সংখ্যা খুবই কম।’
এসএইচবি/এসএইচ/এমইউ
-
৯ ঘন্টা আগে
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’
-
০২ জুন, ২০২৬