যুদ্ধবিরতি কার্যকরে জিম্মিদের তালিকা প্রকাশের শর্ত নেতানিয়াহুর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গাজাবাসীর জন্য বহুল প্রতীক্ষিত দিন আজ রোববার (১৯ জানুয়ারি)। গাজার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় কার্যকর হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ যুদ্ধবিরতি। যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরা চলা রক্তক্ষয়ের অবসান হতে যাচ্ছে।
তবে মুক্তি দেওয়া হবে এমন জিম্মিদের তালিকা হামাস প্রকাশ না করা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুর দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যতক্ষণ না হামাসের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তি দিতে যাওয়া জিম্মি ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়া হবে, ততক্ষণ এটি কার্যকর করা হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সামরিক বাহিনীকে জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না।’
আর ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যার কারণে তাদের হাতে জিম্মি ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করতে দেরি হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরের দিকে ইসরায়েলের জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন পায়। এর আগে শুক্রবার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুমোদন করে।
ইসরায়েলি বর্বরতায় বিধ্বস্ত গাজাবাসী যুদ্ধবিরতির আশায় রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছেন। নিজ বাড়িতে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছেন লাখ লাখ বাসিন্দা।
চুক্তি অনুযায়ী, এদিন স্থানীয় সময় ৪টার পর তিন নারী জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ছাড়া পাবে ৯৫ ফিলিস্তিনি বন্দি। যাদের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগ নারী ও শিশু।
এ ছাড়া গাজায় প্রবেশের অপেক্ষা করছে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মোতায়েন থাকবে ইসরায়েলি বাহিনী।
অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী সড়ক নেটজারিম করিডোরেও থাকবে ইহুদি সেনাদের টহল। এজন্য দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নেতজারিম করিডোর ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেছেন, ‘গাজার ৯০ শতাংশ হাসপাতাল ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে।’
হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর ঘটনাকে ‘সেরা খবর’ বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান।
এমআই/ এমইউ