শহীদ ডা. সজিব সরকারের মায়ের চিকিৎসায় এনডিএফের সহযোগিতা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে শহীদ ডা. সজিব সরকারের মায়ের চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। শহীদ ডা. সজিব সরকারের মা উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।
পরিবার ও এনডিএফ সূত্রে জানা গেছে, তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত আন্তঃস্থায়ী ফুসফুসের রোগ (আইএলডি), ডার্মাটোমায়োসাইটিস (ডিএম), উচ্চ রক্তচাপ (এইচটিএন), অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (ওএসএ) রোগে আক্রান্ত।
ডা. সজিবের অসুস্থ মায়ের সার্বক্ষণিক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল বাবদ ছয়শ’ থেকে এক হাজার টাকা খরচ হয়। ডা. সজিব ছিলেন পরিবারের মূল উপার্জনকারী ব্যক্তি। এমতাবস্থায় ডা. সজীবের অনুপস্থিতিতে উনার নিয়মিত চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।
এনডিএফের প্রতিনিধি দল হাসপাতালে দেখতে গেলে চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরবর্তীতে এনডিএফ’র উদ্যোগে ডা. আবু হেনা আবিদের সহযোগিতায়, বুয়েট মেডিকেল সেন্টার থেকে একটা অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর সংগ্রহ করে ডা. সজিবের আম্মার নিকট পৌঁছিয়ে দেয়া হয়।
কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে গত ১৮ জুলাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছোট ভাইকে আনতে উত্তরায় যান ডা. সজিব সরকার। বিকেলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান গাজীপুর তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের ১০ম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী।
একই মেডিকেলের একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী সূত্রে গত ২৭ জুলাই এ তথ্য পায় মেডিভয়েস।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৮ জুলাই বিকেল ছয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. সজিব সরকারের চাচাতো ভাই ডা. অনিকুর রহমান অনিক জানান, ডা. সজিব আর তিনি ছোটবেলা থেকে একসাথে পড়াশোনা করতেন। ছোট ভাইকে নিয়মিত উত্তরা থেকে বাসায় নিয়ে আসতেন তিনি। তেমনিভাবে সেদিনও উত্তরায় অধ্যয়নরত ছোট ভাইকে আনতে নরসিংদী থেকে ছুটে আসেন ডা. সজিব।
ডা. অনিক বলেন, ভাইকে নিয়ে ফেরার পথে বিকেল পাঁচটা ৪৫ মিনিটের দিকে এক ক্ষুদেবার্তায় ডা. সজিব তাঁকে জানান, পুলিশ তাঁর কাছাকাছি রয়েছে। তাই নিরাপদে ফিরতে সবার দোয়া চান।
‘সাথে সাথে আমি মুঠোফোনে কল এবং বার্তা পাঠাই। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ঠিক এক ঘণ্টা পরে একজন ফোন ধরে জানালো, ডা. সজিবের লাশ উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে এবং পুলিশের গুলিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে’—যোগ করেন ডা. অনিক।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে ডা. সজিবকে পেটে লাথি দেওয়া হয়েছিল। আঘাতের তীব্রতা সইতে না পেরে বসে পড়েন তিনি। আর এই অবস্থায় এক ফিট দূরত্বের মধ্যে উপর থেকে তাকে গুলি করা হয়। উপর থেকে নিচ অ্যাঙ্গেলে একটা গুলি করা হয়। গুলিটা হার্টে লেগে ডান দিকের স্কাপুলার (কাঁধের হাড়) নিচে দিয়ে বের হয়ে যায়।’
ডা. সজিব সরকারের বাড়ি নরসিংদী সদরের জেলখানা মোড় এলাকায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ডা. সজিব তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেলের ২০১১-২০১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন।
ডা. সজিব সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের লেকচারার ছিলেন।
এমআই/এমইউ