নিপাহ ভাইরাস: চলতি বছর ৫ আক্রান্তের সবার মৃত্যু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে নিপাহ ভাইরাসে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে মৃত্যুর হার ছিল ৭১ শতাংশ। আর চলতি বছর ভাইরাসটিতে পাঁচজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবাই মারা গেছেন।
আজ বৃ্হস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) অডিটোরিয়ামে 'নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ক মতবিনিময় সভায়' এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, এ বছর আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ, একজন নারী। এদের মধ্যে দুইজন শিশুও ছিল। মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুইজন মানিকগঞ্জের। অন্যরা খুলনা, শরীয়তপুর ও নওগাঁর বাসিন্দা।
ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ১৯৯৮-৯৯ মালয়েশিয়া থেকেনিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে৷ পরে সিঙ্গাপুরে দেখা দেয়। ২০১৪ সালে ঘোড়া থেকে মানুষে ছড়ায়। বাংলাদেশ ও ভারতে ২০০১ সাল থেকে ভাইরাসটির প্রকোপ দেখা দেয়।
অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন, ২০২৩ সালে দেশের আট জায়গায় ১৩ জন আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে খেজুর রসের মাধ্যমে ছড়ায়, এখানে মৃত্যু হার ৭১ শতাংশ।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে জুন-জুলাইয়ে এর প্রকোপ দেখা দেয়। আর বাংলাদেশে শীতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় উল্লেখ করে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, এ ক্ষেত্রে খেজুরের রস প্রক্রিয়া করে খেলে এ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
দেশের ৩৪ জেলায় নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১২টি টার্শিয়ারি হাসপাতালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।
এ সময় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক লক্ষণ উল্লেখ করেন আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির খেজুর রস খাওয়ার ইতিহাস থাকলে তিনি নিপাহতে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধরে নিতে হবে।
ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, রস খাওয়ার আট দিনের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে শিশু ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে।
আক্রান্তদের নিউরোলজিক্যাল সমস্যা দেখা দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকতে পারে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রস উৎসব হচ্ছে। এতে কাঁচা রসের ব্যাপারে মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে। এতে করে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, যা উদ্বেগের বিষয়।
অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খেজুর রস বিক্রি, বিশেষ করে বিদেশে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সহযোগী বিজ্ঞানী ডা. সৈয়দ মইনুদ্দিন সাত্তার। তিনি বলেন, কাঁচা রস রপ্তানি করা হলে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।
এ সময় নিপাহ থেকে বাঁচতে খেজুরের রস খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কাঁচা রস খাওয়া বন্ধে প্রয়োজনে প্রজ্ঞাপন দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. সৈয়দ মইনুদ্দিন সাত্তার বলেন, ১৫ মিনিটের মধ্যে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আগামী বছরের মধ্যে এ প্রযুক্তি দেশের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।
টিআই/এমইউ