২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০৪:৩২ পিএম

ন্যাশনাল মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের হামলা, মূল ফটক ভাঙচুর

ন্যাশনাল মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের হামলা, মূল ফটক ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিআরএমসি) শিক্ষার্থী অভিজিৎ হালদারের মৃত্যুর ঘটনায় পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের প্রধান ফটকে ভাঙচুর চালিয়েছে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এ ছাড়া এর বিচার চাইতে এলে হামলার শিকার হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

আজ রোববার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকার ৩৫টিরও বেশি কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে এর প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির নামফলক ভেঙে দেন তারা। এর আগে মুরগীটোলা মোড় এবং রায়সাহেব বাজারে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন শিক্ষার্থীরা।

একই সাথে পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী কলেজেও ভাঙচুর চালান এসব শিক্ষার্থী। হামলা করেন কবি নজরুল কলেজেও।

জানা গেছে, ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ নভেম্বর ন্যাশনার মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন শিক্ষার্থী নগেন হালদার ও মনিমালা হালদার দম্পতির সন্তান অভিজিৎ হালদার। দুইদিন পর হাসপাতালে মারা যান তিনি। এরপর চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে ২০ ও ২১ নভেম্বর হাসপাতাল অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ, এদিন কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর আক্রমণ করেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার হাসপাতাল আক্রমণে ঢাকা কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সিটি কলেজ, গিয়াসউদ্দিন কলেজ, সরকারি তোলারাম কলেজ, ইম্পেরিয়াল কলেজ, বোরহানউদ্দিন কলেজ, বিজ্ঞান কলেজ, দনিয়া কলেজ, লালবাগ সরকারি কলেজ, উদয়ন কলেজ, আদমজী, নটরডেম, রাজারবাগ কলেজ, নূর মোহাম্মদ, মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, গ্রিন লাইন পলিটেকনিক, ঢাকা পলিটেকনিক, মাহবুবুর রহমান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ রাজধানীর প্রায় ৩৫টির বেশি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

চিকিৎসায় চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল না দাবি করেছেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. রেজাউল হক। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় তার (অভিজিৎ হালদার) অবস্থার অবনতি হলে রোগীর অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সব চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেষ্টার পরও ১৮ তারিখ মারা যান তিনি। এখানে আমাদের কোনো ত্রুটি কিংবা অবহেলা ছিল না।

তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু পরবর্তী মরদেহ হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে রোগীর আত্মীয়কে বুঝিয়ে দেন এবং রোগীর সম্পূর্ণ বিল স্থগিত রাখা হয়।

ডা. রেজাউল হক আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল ঘেরাও কর্মসূচি পালন করলে পরিচালকের কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছাত্র প্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়। সভা থেকে মৃত্যুর বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবেন এবং সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মহল কোমলমতি ছাত্রদের ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তিমূলক, অসত্য ও উসকানিমূলক তথ্য দিয়ে হাসপাতালের পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন এই চিকিৎসক।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত