থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন কাজল, বিকেলে বসতে পারে মেডিকেল বোর্ড
মেডিভয়েস রিপোর্ট: উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন গণঅভ্যুত্থানে আহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজল মিয়া (২৭)। সোমবার (১৮ নভেম্বর) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের (নিনস) সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার রাত ১টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সিঙ্গাপুর থেকে আনা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। মধ্যরাতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনে আহত কাজল মিঞাকে বিদায় জানান।
অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, ‘কাজলরা ভালোভাবে থাইল্যান্ডে পৌঁছে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ। তাকে ভেজথানি হাসপাতালের আইসিউতে রাখা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড আজ বিকেল অথবা কাল বসে জানাবে কাজলের কী কী ট্রিটমেন্ট করতে হবে।’ কাজল মিয়া এখন ‘স্ট্যাবল’ আছে বলেও জানান ডা. হুমায়ুন কবির হিমু।
কাজল মিয়াকে বিদায় জানানোর সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাজলকে থাইল্যান্ড পাঠাতে শুধু এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্যই ৬৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা চিকিৎসা বাবদ ১০ লাখ টাকা দিয়েছি। বাকি আরও লাগলে আমরা দেখে-বুঝে পাঠাবো।’
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আরও একজন অপেক্ষা করছে যাওয়ার জন্য। তিনি নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কাল অথবা পরশু আমরা তাকে পাঠাতে পারবো বলে আশা করছি। এখন পর্যন্ত আমরা পাঁচ জনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে পেরেছি। এছাড়া আরও ২০-২৫ জনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে তুরস্কে পাঠানো হবে। এদের মধ্যে তিন জন চোখে আঘাতপ্রাপ্ত এবং চার জন অর্থপেডিকসের রোগী। তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আমাদের আলাপ আলোচনা চলছে।’
বিভিন্ন দেশ থেকে ডাক্তাররা এসে আহতদের চিকিৎসায় সেবা দিয়েছেন জানিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে ফ্রান্স, নেপাল, ইউকেসহ বিভিন্ন দেশ থকে ডাক্তাররা এসে চিকিৎসা দিয়েছেন। বিদেশ থেকে আসা চিকিৎসকরা আহতদের যে চিকিৎসা বাংলাদেশে হয়েছে সেটা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সম্পতি যুক্তরাজ্য থেকে আসা ডাক্তাররা ৯৩ জন আহতকে দেখেছেন এবং ১৮ জন আহতের অপারেশন করেছেন।’
এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং নিন্সের পরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ।
জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ বিভাগের ছাত্র কাজল মিয়া জুলাইয়ের শুরু থেকেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। পুরো জুলাই মাস ও আগস্টের শুরুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। ৪ আগস্ট ভাইয়ের বিয়ের বর্ষপূর্তিতে অংশগ্রহণের জন্য বড়ভাই রুবেলের যাত্রাবাড়ির বাসায় যান।
পরের দিন ডাক আসে লংমার্চ ফর ঢাকার। ৫ আগস্ট ভোরেই আন্দোলনে যোগদানের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন কাজল। যাত্রাবাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলির মুখে সবাই রাস্তা ছেড়ে দিলেও সাহসিকতার সাথে দাঁড়িয়ে থাকেন কাজল। রংপুরের আবু সাঈদের মতো দু'হাত প্রসারিত করে বুক পেতে তিনি। পুলিশ তার মাথায় গুলি চালালে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
পরে লোকজন উদ্ধার করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিন্স) হাসপাতালে ভর্তি করেন কাজলকে। সেখানে তার মাথায় অপারেশন হয়। গত প্রায় তিন মাস হাসপাতালের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে তার উন্নতি হতে থাকে। কিন্তু বাম হাত-পা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। তার জন্য প্রয়োজন রোবটিক ফিজিওথেরাপি। কিন্তু দেশে সে ব্যবস্থা নেই। সেজন্য মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় তাকে বিদেশে পাঠানোর।
এর পর থেকে কাজলকে বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু এর আগেই স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। গত তিন দিন আগে হঠাৎ করে ইনফেকশন হয়। বেশ কয়েকবার তার ডায়রিয়া হয়। এতে রক্তচাপ কমে শকে চলে যান তিনি। পরে নিন্সে বোর্ড করে চিকিৎসা দেওয়া হতে থাকে।
এনএআর/