১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০৭:৪৪ পিএম

‘জীবনযাত্রা বদলালে ডায়াবেটিসের ৫০ শতাংশই প্রতিরোধ সম্ভব’

‘জীবনযাত্রা বদলালে ডায়াবেটিসের ৫০ শতাংশই প্রতিরোধ সম্ভব’
সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সময়মতো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় ৫০ শতাংশ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল অ্যানডোক্রাইনোলোজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানানো হয়।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর এসেডবি মিলনায়তনে ‘ডায়াবেটিস ও সুস্থতা : শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়।

সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস এখন এক মহামারি রোগ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দুই দশক আগেও ডায়াবেটিস স্বল্প পরিচিত থাকলেও বর্তমানে শুধু উন্নত বিশ্বেই নয়, বরং উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত বিশ্বেও ডায়াবেটিস বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। শুধু শহরাঞ্চলই নয়, গ্রামীণ জীবনেও ডায়াবেটিসের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে।

তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটির মতো। ২০৩০ সালের মধ্যে তা হবে ৬০ কোটি। বাংলাদেশে সত্তরের দশকে ডায়াবেটিসের প্রবণতা ছিল মাত্র দুই শতাংশের মতো, আজ তা ঢাকা শহরেই প্রায় ১০ শতাংশ ছুঁয়েছে এবং প্রি-ডায়াবেটিসের (ডায়াবেটিসের আগের ধাপ) হার আরো ১০ শতাংশ।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে বক্তারা জানান, গ্রামাঞ্চলেও ডায়াবেটিসের সামগ্রিক প্রবণতা পাঁচ থেকে আট শতাংশের মতো। এ ছাড়া দেশে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের হার উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি।

তরুণদের মেদ-ভূড়ির হার বৃদ্ধি এবং কায়িক পরিশ্রমের প্রতি অনিহার কারণে ডায়াবেটিসের হার দিনে দিনে বাড়তেই থাকবে উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, এভাবে ডায়াবেটিস বাড়তে থাকলে শুধু ডায়াবেটিসের কারণেই দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এসেডবির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যার কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিউর, অন্ধ হয়ে যাওয়া, পায়ে পচন, এমনকি পা কেটে ফেলা পর্যন্ত লাগতে পারে। এত বড় বৈশ্বিক এই জটিল স্বাস্থ্য সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধে তাই দরকার জনসচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততা। সময়মতো ইন্টারভেনশনের (খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন) দ্বারা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডায়াবেটিসের প্রতিকার এবং প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই। ডায়াবেটিস রোগীর সার্বিক কল্যাণের জন্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, আলেম এবং প্রচারমাধ্যমগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ‘ডায়াবেটিসের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক’ বক্তব্য রাখেন এসেডবির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ। এ সময় বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বর্তমান চিত্র নিয়ে অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল ইসলাম, ডায়াবেটিসের অপচিকিৎসা নিয়ে অধ্যাপক ডা. মীর মশাররফ হোসেন এবং ডায়াবেটিসের সুচিকিৎসার অন্তরায় নিয়ে অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বক্তব্য দেন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক