নড়ছে না বঞ্চিতদের ফাইল, স্বাচিপ নেতা পেলেন পদোন্নতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: পদোন্নতি পেয়েছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. আবু ফয়সাল মো. আরিফুল ইসলাম নবীন। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে সংযুক্তিতে থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ডা. নবীনের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে পার-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সই করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয়াধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে কর্মরত ডা. আবু ফয়সাল মো. আরিফুল ইসলাম নবীনকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর ৪র্থ গ্রেডে ৫০,০০০-৭১,২০০ টাকা বেতনক্রমে সহযোগী অধ্যাপক (প্লাস্টিক সার্জারি) পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে বদলি/পদায়ন করা হলো।’
আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে বর্ণিত কমস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে তাকে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) ৪র্থ ব্যাচের (১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষ) এই শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরে ডা. নবীন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ২০১৭-১৮ সেশনে দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে ২০২২ সেশনের কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব পদে প্রার্থিতাও করেন।
তিনি ২০০৫ সালে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালে চাকরিতে যোগ দেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক থাকাকালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে এর বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হন বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসকরা। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি হিসেবে তাকে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে সংযুক্তিতে পাঠানো হয়।
এদিকে মেডিকেল কলেজ থাকাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি পেশাগত জীবনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন ডা. নবীন। তবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিরোধিতার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।
অন্যদিকে তার পদোন্নতির খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ১৫ বছর ধরে বঞ্চিত চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, বিগত দেড় দশকে বঞ্চিত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের যেখানে নিজেদের থেকে আবেদনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কিসের ভিত্তিতে ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে শেষ দিন পর্যন্ত যিনি কাজ করেছেন, তার পদোন্নতির আদেশ এলো। অথচ বঞ্চিত কারো পদোন্নতির আদেশ এখনও হচ্ছে না। স্বাচিপের পদধারী এই নেতা এতদিন সুবিধা নিয়েই ছিলেন। এবারের ত্রাণ কমিটিতেও ছিলেন তিনি। অন্যদের পদোন্নতি বা পদায়ন না হলেও তার পদোন্নতি হয়েছে, বিষয়টি চরম আপত্তিকর।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদম বিপরীত অবস্থানে ছিলেন ডা. নবীন। তিনি আন্দোলনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত চাকরিতে বঞ্চনার শিকার কর্মকর্তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিকার চেয়ে আবেদনের পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই সময়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের নিজেকে বঞ্চিত মনে হলে তাদেরও আবেদন করতে বলা হয়েছে। এর এক দিন পরেই স্বাচিপ নেতার পদোন্নতির খবর সামনে এলো।
এনএআর/
-
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
-
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০