বিশ্ব ফুসফুস দিবস
সুস্থ ফুসফুসের জন্য চাই নির্মল বায়ু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আজ ২৫ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিশ্ব ফুসফুস দিবস। বিশ্বব্যাপী ফুসফুস-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ফুসফুস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে ফোরাম অব ইন্টারন্যাশনাল রেসপিরেটরি সোসাইটি। বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুস মেরুদণ্ডী প্রাণীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান কাজ হচ্ছে বাতাস থেকে অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে নেয়া এবং রক্তপ্রবাহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বাতাসে নিষ্কাশন করা। এই গ্যাস আদান-প্রদান করা হয় বিশেষায়িত কোষ দ্বারা তৈরি, খুবই পাতলা দেয়ালবিশিষ্ট লক্ষাধিক বায়ু থলির দ্বারা যাকে অ্যালভিওলাই বলে। এর শ্বাসকার্য ছাড়া অন্য কাজও আছে।
ফুসফুসের অন্যতম শত্রু হলো দূষিত বায়ু। বায়ুদূষণ হলো বায়ুমণ্ডলে এমন সব পদার্থের উপস্থিতির কারণে হওয়া দূষণ, যা মানুষ এবং অন্যান্য জীবের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি মূলত রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ, শারীরিক বা জৈব মাধ্যম দ্বারা গঠিত ভেতরের বা বাইরের পরিবেশের একপ্রকার দূষণ, যা বায়ুমণ্ডলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে পরিবর্তন করে দেয়।
জলবায়ু পরিবর্তনে যখন সারা বিশ্ব সতর্ক অবস্থান নিয়ে কাজ করছে, তখনই বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাইবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচকে দেখা যায়, গত সোমবার সকালে বিশ্বের ১২০টি শহরের মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ছিল বায়ুদূষণের শীর্ষে। এ সময় ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা ছিল ২৭৮।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। দেশের প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষ অ্যাজমা রোগে ভুগছেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ যক্ষ্মা আক্রান্ত ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২১ ভাগই সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে আক্রান্ত। যাদের ৬২ শতাংশ ধূমপায়ী।
বায়ুদূষণের কারণে যেসব রোগ হতে পারে : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রজন্ম যদি দীর্ঘ সময় বায়ুদূষণের মধ্যে কাটিয়ে দেয়, তাহলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বায়ুতে ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার ১০ গুণেরও বেশি।
ফুসফুস রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়ুদূষণ, ধূমপান, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, সামাজিক সচেতনতার অভাব। বাংলাদেশের ফুসফুসের প্রধান রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সিওপিডি, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, যক্ষ্মা, আইএলডি, ফুসফুস ক্যান্সার। দিন দিন এ রোগের প্রভাব বিস্তার হচ্ছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে। অত্যধিক বায়ুদূষণের কারণে এ রোগে অকালমৃত্যুও বাড়ছে।
এনএএন/