ঢাবির নভেম্বরের পেশাগত পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় পেশাগত (প্রফ) পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সারাদেশে বিভিন্ন পদে রদবদলসহ নানা কারণে এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ঢাবির মেডিসিন অনুষদ বলছে, পরীক্ষা যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। একই কথা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরেরও।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, পেশাগত পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে ৪৭তম বিসিএসে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাবেন তারা। তাদের দাবি, আগের ব্যাচগুলোর ইন্টার্ন শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর মেডিকেলগুলো ইন্টার্নিশূন্য হয়ে পড়বে।
তারা বলছেন, নভেম্বরে পেশাগত পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ জারি করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের ফাইনাল প্রফ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। কিন্তু আগেই করোনার কারণে আমাদের পিছিয়ে যেতে হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল চলতি আগস্টেই পরীক্ষা নেওয়ার। কিন্তু তা হয়নি। আগামী নভেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ডিন স্যার রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তারা গত ফেব্রুয়ারিতে ফাইনাল প্রফ দিয়েছেন। ইন্টার্নিও শুরু হয়েছে তাদের। তারা পরীক্ষাও শেষ করে ইন্টার্নিও শুরু করলেন। কিন্তু আমাদের প্রফ কবে হবে, সেটা আমরা জানি না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শুনছি প্রফ পিছিয়ে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে। এতে আমরা পিছিয়ে পড়বো। ঢাবির বাইরে যেসব মেডিকেল আছে, তারা ৪৭ বিসিএসে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু আমাদের পরীক্ষা ডিসেম্বরে শুরু করলেও আমরা ৪৭ বিসিএসে বসতে পারবো কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। একই সেশনের অন্যান্য মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা বসতে পারবেন, আমরা কেন পারবো না?’
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা নভেম্বরেই দিতে হবে এবং এখনই রুটিন তৈরি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটা পাবলিশ করতে হবে। পরীক্ষার শেষে এক-দুই মাসের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে আমাদের ইন্টার্নিতে নিয়ে যেতে হবে। কারণ আমাদের আগের ব্যাচগুলোর ইন্টার্ন শেষ হয়ে গেলে অলরেডি মেডিকেল কলেজগুলো ইন্টার্নশূন্য হয়ে যাবে।’
এ ছাড়া যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি আলাদাভাবে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা এবং পরবর্তীতে ৪৭তম বিসিএসে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন এসব শিক্ষার্থী।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নভেম্বরের শিডিউল পরিবর্তন হয়নি। আমরা যথাসময়েই পরীক্ষা নেবো। এটা না করলে এমনিতেই পিছিয়ে যাবে, আবার ইন্টার্নি সংকটও হবে।’
রুটিন প্রকাশ না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রুটিন বা শিডিউল এখনই প্রকাশের সময় নয়। সেটা পরীক্ষার এক মাস আগে প্রকাশ করা হয়।’
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর মেডিভয়েসকে একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন অনুষদের ডিন। এটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।’
তবে রদবদলের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘রদবদল হলে সেটা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। ধরে নেওয়া হচ্ছে সময়মতোই পরীক্ষা হবে।’
এনএআর/এমইউ
-
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
০৫ অক্টোবর, ২০২৫