স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্রের সঙ্গে রোগীকে ফুলের তোড়া
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ১৪ মাস বয়সী শিশু কন্যা আলিফাকে নিয়ে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন মা সুমাইয়া জান্নাত। পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যা হয়েছিল মেয়ের। ডাক্তারদের চিকিৎসায় এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে। বাড়ি ফেরার আগে আয়োজন করে তাকে ছাড়পত্র তুলে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ফুলের তোড়াও।
ছোট্ট শিশুর সুস্থতার সাথে সাথে কর্তৃপক্ষের এমন ফুলেল উপহার বাড়তি আনন্দ জুগিয়েছে সুমাইয়া জান্নাতকে। বলছেন, ‘রোগীদের প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কমতি নেই। চিকিৎসক ও সেবিকাদের আন্তরিক চিকিৎসা ও পরিচর্যায় দুদিনের মধ্যেই আলিফা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে।’
শুধু আলিফা ও সুমাইয়া জান্নাতই নয়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া সব রোগীকেই ছাড়পত্রের সঙ্গে দেওয়া হয় ফুলের তোড়া। রোগীদের সরকারি হাসপাতালমুখী করতেই ভিন্নধর্মী এমন উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ উদ্যোগকেও সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা।
উপজেলার সিদলাই ইউনিয়নের পূর্ব পুমকারা এলাকার বাসিন্দা মো. জমির হোসেন তিন দিন আগে জ্বর ও কাশি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। রোববার চিকিৎসক তাকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ফুলের তোড়া। এতে বেশ খুশি এই রোগী। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও সেবিকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের নিবিড় চিকিৎসায় ও যত্নে আমি আরোগ্য লাভ করেছি। আরোগ্য লাভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই যে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। এতে রোগীরা মানসিক শক্তি ফিরে পাচ্ছে এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের আস্থা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. মহিউদ্দিন মুবিনের উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহের রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার মেলে অতিরিক্ত এই সেবা।
জানতে চাইলে ডা. আবু হাসনাত মো. মহিউদ্দিন মুবিন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অনেকেরই অনীহা রয়েছে। মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। এ ধরনের ভুল ধারণা থেকে উপজেলাবাসীকে বের করে আনতে এ ধরনের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই এই উপজেলার রোগীরা প্রাইভেট হাসপাতালে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিক। সেবা গ্রহীতাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদল চিকিৎসক ও নার্স সর্বদা নিয়োজিত আছে।’
এনএআর/