অধ্যাপক আশরাফের জন্মশতবার্ষীকিতে বিসিপিএসের সংবর্ধনা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস.এ. আশরাফের জন্মশতবার্ষীকিতে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করে বিসিপিএস।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে বিসিপিএস অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে ডা. আশরাফের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীবৃন্দ চিকিৎসাখাতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যতগুলো সার্জন তৈরি হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই ডা. এস.এ. আশরাফের হাত গড়ে উঠেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ‘আমরা আশরাফ স্যারের শততম জন্মবার্ষীকি পালন করছি, কিন্তু উনি এখনো যেভাবে জ্ঞান নিয়ে কথা বলেন এমনটা সাধারণত দেখা যায় না।’ এ সময় শিক্ষার্থী হিসেবে ডা. আশরাফের সাথে নানা স্মৃতিচারণ করেন স্বাস্থ্যের ডিজি।
স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটি সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সার্জনদের মধ্যে একমাত্র ডা. আশরাফ স্যারকেই পাকিস্তান থেকে নিয়ে আসা যায়। তিনি পাকিস্তান থেকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শিফট হয়ে শাহবাগে চলে আসেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যতগুলো সার্জন তৈরি হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই ডা. এস. এ. আশরাফের হাত গড়ে উঠেছেন।’
বিসিপিএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ‘আশরাফ স্যার অত্যন্ত মেধাবী একজন সার্জন ছিলেন। এর বাইরে ওনার আরেকটি বড় পরিচয় তিনি একজন মানবিক মানুষ। বাংলাদেশে যেন কখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব না হয়, সে লক্ষ্যে আমরাফ স্যার কাজ করে গেছেন। আজকের এই বিসিপিএসের প্রতিষ্ঠাতাদের একজনও তিনি।’
শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বলেন, ‘আমি আশরাফ স্যারের সরাসরি শিক্ষার্থী ছিলাম। স্যারকে আমি সব সময় দেখেছি তিনি সময় মতো ক্লাসে আসতেন। কখনো ক্লাসে দেরি করে আসতে দেখিনি। স্যারের মতো মানুষ হাল ধরেছিল বলেই বিসিপিএস আজকের এই অবস্থানে এসেছে।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চূয়ালি যুক্ত হয়ে বর্ষীয়ান চিকিৎসক ডা. এস. এ. আশরাফ বলেন, বাংলাদেশেও উন্নত দেশের মতো চিকিৎসাসেবা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডা. আশরাফের জীবনী নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও কেক কেঁটে জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
অধ্যাপক ডা. এস.এ. আশরাফ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এর পর সেখানেই কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে এফআরসিএস সম্পন্ন করেন। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের কাউন্সিলর ছিলেন, পরবর্তীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স গঠিত হলে অধ্যাপক ডা. এস. এ. আশরাফ সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন বিসিপিএসের দুইবারের সভাপতি।
-
০৭ জুন, ২০২৬
-
০৪ জুন, ২০২৬
এফসিপিএসে নতুন নীতিমালা
‘মেধাক্রমের ভিত্তিতে ভাতা সীমাবদ্ধ হলে প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়বেন’