পিত্তথলির পাথর থেকে অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ
পিত্তথলিতে পাথর অসুখের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এমনকি সাধারণ মানুষও এ অসুখের সাথে পরিচিত। পিত্তথলিতে পাথরকে ইংরেজিতে বলা হয় গলস্টোন ডিজিজ। আর চিকিৎসকরা এ রোগকে বলেন কোলেলিথিয়াসিস।
মেয়েদের বেশি এই রোগ হয়। এই অসুখ থেকে পিত্তথলির ক্যান্সার হতে পারে। আরেকটি বিপজ্জনক অসুখ হতে পারে পিত্তথলির পাথর থেকে। সেটি হচ্ছে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ। প্যানক্রিয়েটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ জটিল অসুখ। অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের অনেক কারণ আছে। তবে পিত্তথলির পাথর এবং এলকোহলের কারণে সবচেয়ে বেশি হয়। অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হলে মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে।
প্যানক্রিয়েটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ তখনই হয়, যখন পিত্তথলির পাথর মূল পিত্তনালি থেকে নেমে অগ্ন্যাশয়ের নালিতে আটকে যায়। তখন দেখা দেয় একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস।
অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হলে হঠাৎ পেটের মাঝখানে তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথা বেশিরভাগ সময় এতই তীব্র হয় যে, রোগী ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে, দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর না করলে রোগী শকে যেতে পারে। ব্যথা পিঠেও ছড়িয়ে যেতে পারে। একটু সামনের দিকে ঝুঁকে বসলে রোগী আরাম পায়। বমি হয়। অনেক সময় প্রচুর বমি হয়।
রক্তে অ্যামাইলেজের এবং লাইপেজের মাত্রা, আল্ট্রাসাউন্ড, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান এবং ইআরসিপির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়। সিআরপি টেস্ট করা হয়। জটিলতা হচ্ছে কিনা, তা দেখার জন্য আরও কিছু পরীক্ষা করা হয়।
প্যানক্রিয়াটাইটিসের প্রদাহ হলে বেশির ভাগ রোগীই সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়। তবে জটিলতাও কিন্তু হতে পারে। অবশ্যই রোগীকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করতে হবে। তীব্র ব্যথা নিয়ে যেহেতু হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাই রোগীকে মুখে খাবার বন্ধ করে স্যালাইন ও ব্যথার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়। জটিল রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করে চিকিৎসা করা উচিত।
পরিস্থিতি সবসময় পর্যবেক্ষণ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা হিসেবে প্যানক্রিয়াসে অ্যাবসেস নেক্রোসিস বা সিস্ট হতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে অপারেশন লাগে। যদি পিত্তথলির পাথরের জন্য প্রদাহ হয়, তবে প্রদাহ কমার কমপক্ষে চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর পিত্তথলির পাথরের অপারেশন করা হয়।
অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ জটিল রোগ। তাই এই বিষয়ে সবারই জানতে হবে।
এএনএম/