১৫ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:৫৬ এএম

বিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় কারণ সিওপিডি

বিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় কারণ সিওপিডি
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্বাসতন্ত্রের সুস্থতার জন্য অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে। ধূমপান পরিহার ও দুষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) অন্যত শীর্ষ পর্যায়ের রোগ। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়। ভয়ংকর এই রোগ সম্পর্কে অবগত হয়ে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এটি প্রতিরোধে সচেষ্ট হতে হবে।

বিশ্ব সিওপিডি দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার (১৫ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের আয়োজনে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে সিওপিডি অন্যত শীর্ষ পর্যায়ের রোগ। পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুর সকল কারণের মধ্যে এটি তৃতীয়। তাই এই ভয়ংকর রোগ সম্পর্কে আমাদের ভালোভাবে জানতে হবে এবং প্রতিরোধে সচেষ্ট হতে হবে।

দিবসটি পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, বিশ্ব সিওপিডি দিবস পালন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্বাসতন্ত্রের সুস্থতার জন্য মুখে মাস্ক অবশ্যই পড়তে হবে। ধূমপান পরিহার ও দুষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে সিওপিডি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কলকারখানার ধোঁয়াসহ সকল ধরনের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা, তামাক চাষ বন্ধ করা এবং তামাক জাতীয় দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সিওপিডি রোগ অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব। ধূমপানই সিওপিডির প্রধান কারণ। তাই এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষাক্ত ও ক্ষতিকারক উপাদান শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করার ফলে শ্বাসনালী ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আক্রান্ত স্থানে প্রদাহ তৈরি হয়।

সেমিনারে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, আক্রান্ত ফুসফুসের ছোট ছোট বায়ু কুঠুরিগুলো নিষ্ক্রিয়া হয়ে যায় (এমফাইসিমা) অথবা শ্বাসনালীর অংশগুলোর আবরণের ধরন পরিবর্তিত হয়ে বাড়তি মিউকাস নিঃসরণ করে এবং সিলিয়া বা প্রক্ষেপযুক্ত আবরণীয় সংখ্যা কমে যায় (ব্রংকাইটিস)। ফলে দীর্ঘমেয়াদি কাশি, কফ নিঃসরণ ও শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে প্রচ্ছন্ন হয়ে উঠতে থাকে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করে এবং এক সময় এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, তখন রোগী নিজের দৈনন্দিন কাজকর্ম করতেও শ্বাসকষ্টে ভোগেন। একই সাথে দানা বাঁধে সিওপিডিজনিত অন্যান্য জটিলতা, যেমন—হৃদরোগ, মাংসপেশির দুর্বলতা, ওজন হ্রাস, বিষণ্ণতা ও ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নানা ধরনের বাড়তি সমস্যা।

এ সময় শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত এই ব্যাধি থেকে সুরক্ষা পেতে ধোঁয়ামুক্ত চুলা ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করেন তিনি। একই সঙ্গে ইটভাটার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিএসএমএমইউ প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, শীতকালে সিওপিডি আক্রান্তদের রোগের মাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজতর হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এই রোগে ভোগা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর এই রোগে বিশ্বে কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষ মারা যায় এবং কমপক্ষে ৩০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়। তবে অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষণ হ্রাস করা, জৈব জ্বালানির ক্ষতিকর দিক থেকে মানুষকে রক্ষা করা এবং ধূমপানে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে এই রোগটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে বিএসএমএমইউতে জনসচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য 'ব্রিদিং ইজ লাইফ-অ্যাক্ট আরলিয়ার।'

এএনএম/টিআই

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত