হাটহাজারিতে চিকিৎসায় সুস্থ লসিকাগ্রন্থিতে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাটহাজারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন লসিকাগ্রন্থিতে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী।
আজ বুধবার (১৩ সেপ্টম্বর) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুকুর রহমান মেডিভয়েসকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নাসিমা (ছদ্ম নাম) এক রোগীর ঘাড়ের লিম্ফনোড (লসিকাগ্রন্থি) ফুলে যায় বছর খানেক আগে। প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শে রোগী কিছু ওষুধ খান এবং ঘাড়ের ফোলা থেকে টিস্যু নিয়ে পরীক্ষা (FNAC) করান। এতে তার লসিকাগ্রন্থিতে যক্ষ্মা ধরা পড়ে। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নারে ওই রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়। চার মাস ওষুধ সেবনের পরেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং টিস্যু বায়োপসি (রোগ নির্ণয়) করেন।
ডা. মাসুকুর বলেন, পরবর্তীতে জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা করে তার (Multi drug resistant TB) অর্থাৎ যেসকল ওষুধ সাধারণত যক্ষ্মা চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, সেগুলো তার শরীরে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় রোগীকে ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল চিকিৎসা গাইড লাইন দিয়ে রোগীকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ নয় মাস হাটহাজারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. রশ্মি চাকমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রোগীর চিকিৎসা চলে। যক্ষ্মা রোগ চিকিৎসক দলের উদ্যোগে তার বাড়িতে প্রতিদিন পৌঁছে যেতে প্রয়োজনীয় ওষুধ।
তিনি আরও বলেন, জটিল চিকিৎসা বিধায় প্রতিমাসে ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা, দেখার জন্য করা হতো বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
এ বিষয়ে ডা. রশ্মি চাকমা মেডিভয়েসকে বলেন, এ চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, কিন্তু সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগী এ রোগের চিকিৎসা পেয়েছেন। নাজমা এখন সুস্থ। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তার পরিবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর মোট আক্রান্ত রোগী ৪৯৬ জন। এমডিআর যক্ষ্মা রোগী ৪ জন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এমডিআর রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাধ্যতামূলক চিকিৎসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ রোগীর চিকিৎসায় ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার যাচাই ও মাসিক ফলোআপ করেন মেডিকেল অফিসার ডা. মাশুকুর রহমান। নিয়মিত তার বাড়ি পরিদর্শন ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক শিক্ষা প্রদান করেন টিএলসিএ শরীফ উদ্দিন এবং ব্র্যাক ম্যানেজার সৃজন কান্তি দাস।
এএইচ/এমইউ